রবিবার, জুলাই ৩১, ২০১৬

Post #009 ...পাপের শহর # ০৩

এ এক অন্য শহর...এটা প্রকৃতপক্ষেই পাপের শহর - সিন সিটি... 


সিন সিটি ২ চলচ্চিত্রের পোস্টার
এসে গেছি ফ্রাঙ্ক মিলারের সিন সিটির বাংলা অনুবাদ পাপের শহর তৃতীয় পর্ব নিয়ে।এবার দেখে নেওয়া যাক আমাদের এই কাহিনীর নায়কের কিছু তথ্য।


চরিত্রের টুকিটাকি-

মার্ভঃ--   হার্ড গুডবাই গল্পের প্রধান একটি চরিত্র হচ্ছে মার্ভ।তার চরিত্রের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের জন্য সিন সিটিতে সবচেয়ে সহজেই চিনে নেওয়ার তালিকায় তার স্থান দ্বিতীয়  । প্রথম অবশ্যই ন্যান্সি।

মিকি রোর্ক সিনেমাতে মার্ভ এর চরিত্রে অভিনয় করেন।

মার্ভ এর শরীরে আছে অস্বাভাবিক মাত্রায় গায়ের জোর ও সহ্য ক্ষমতা।সে একসাথে একাধিক গুলির আক্রমণ থেকে বেঁচেছে,চলন্ত গাড়ীর ধাক্কায় তার কিছুই হয়নি, তাকে খালি হাতে দরজা, জানালা ভাঙতে এমনকি শত্রুর মাথার খুলি নিজের খালি হাতে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

ওয়ালেসের মতো মার্ভ ও মিলিটারি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে।


সিন সিটির বঙ্গানুবাদ সংখ্যার প্রচ্ছদ
আজ এ পর্যন্তই থাক আগামী পর্বে এ নিয়ে আরও কিছু আলোচনা করা যাবে।

এবার আগের পর্বে আমরা যা পড়েছি তার সার-সংক্ষেপ পড়ে নেবঃ-

সারসংক্ষেপঃ- গল্পের শুরুতে মার্ভ গোল্ডী নামে একটা মেয়ের সঙ্গে এক রাত্রিবাস করে। মার্ভ এর জীবনের সেরা রাত উপহার দিয়েছিল গোল্ডী।দুজনেই প্রচণ্ড মদ্যপ অবস্থায় ছিল।ঘন্টা তিনেক বাদে মার্ভ ঘুম থেকে উঠে দেখে পাশে পড়ে আছে গোল্ডীর নিথর মৃতদেহ।গায়ে কোনও আচড় নেই কেউ নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে তাকে খুন করে,মার্ভকে ফাঁসানোর জন্য।বাইরে পুলিশের গাড়ীর আওয়াজ পাওয়া যায়।সবাই আবার মার্ভ এর পেছনে পড়েছে।এবার শুরু হয় মার্ভ এর খেলা।কিছু পুলিশকে উত্তম মধ্যম দেওয়ার পরে সে একটা পুলিশের গাড়ী নিয়ে নদীর জলে লাফ দেয়।

সেখান থেকে সাঁতার কেটে সে জল নিষ্কাশন পাইপের মধ্যে দিয়ে তার বন্ধু ও প্যারোল অফিসার লুসেলের কাছে পৌঁছায়,সেখানে সে তার অসুখের (পোস্ট ট্রোমাটিক ডিসঅর্ডার) বড়ি পায়।এবার সে তার বাড়িতে কিছুসময় গা ঢাকা দেয়।তার মায়ের সাথে কিছুসময় কাটায়,আর তার নতুন কাজের কথা জানায়।এরপর সে যায় কেডীর পাবে,গোল্ডীর খুনীর সন্ধানে।সেখানে সে উইভিল নামের এক ভাড়াটে গুন্ডাকে ঘুষ খাওয়ায় যাতে সে তার মদ্যপান করে পাবে বাওয়াল করার ভুয়ো খবর চতুর্দিকে রটিয়ে দেয় সেই উদ্দেশ্যে।এরপর স্টেজে ন্যান্সির আগমন ঘটে,কিছুক্ষন উদ্দাম নৃত্য চলে,এই সুযোগে মার্ভ এক গুপ্তঘাতকের পাল্লায় পড়ে। সে বন্দুক দেখিয়ে মার্ভকে পাবের বাইরে নিয়ে আসে।এবার মার্ভ খেলা শুরু করে ওদের মেরে মাটিয়ে শুইয়ে দেওয়ার আগে মার্ভ জেনে নেয় ট্রিপিল এস ক্লাবের মালিক এর সঙ্গে যুক্ত।এবার মার্ভকে তার সন্ধানে বের হতে হবে।এরই মধ্যে মার্ভ যেন হঠাৎটি আবার গোল্ডীর দেখা পায়,মার্ভ বুঝতে পারে যে,তার আবার ভ্রম হচ্ছে, আবার বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে সে।এর মধ্যেই ভোর হয়ে আসে...

আজ আপনার সামনে উপস্থাপন করতে চলেছি পাপের শহরঃ কঠিন বিদায় তৃতীয় পর্ব।

* সমস্ত তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

বিদ্রঃ এটি একটি অ্যাডাল্ট কমিক্সএরকম মাপের একটি সাইকোলজিক্যাল,এরটিক,ক্রাইম থ্রিলার গল্পের গভীরতা বোঝার জন্য পুরোপুরি পরিণত মস্তিষ্কের পাঠকের প্রয়োজন।এতে বেশিরভাগ উপাদান বড়োদের জন্যই সৃষ্ট।গল্পটির সাইকোলজি বাচ্চাদের (বড়দের তো অবশ্যই) মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য,এছাড়াও এতে অতিরিক্ত মাত্রায় নগ্নতা,অশ্লীল গালাগাল ও তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে।কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য তাই ১৮ বছরের কম বয়স্ক পাঠকদের এটি পড়তে নিষেধ করা হল।



 আজ পড়ুন পাপের শহর এর চতুর্থ পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে। 
অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।





আগামি পর্বে পড়ুন এই রোমহর্ষক গ্রাফিক অ্যালবামের চতুর্থ পর্ব,শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...




বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।




রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬

Post #008 ...পাপের শহর # ০২

এ এক অন্য শহর...এটা প্রকৃতপক্ষেই পাপের শহর - সিন সিটি... 


মিকি রোঁর্ক‌ সিন সিটি চলচ্চিত্রে মার্ভের চরিত্রে অভিনয় করেন।
এসে গেছি ফ্রাঙ্ক মিলারের সিন সিটির বাংলা অনুবাদ পাপের শহর
দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে।আগের পর্বে আপনারা প্রথম পড়েছিলেন পাপের শহর।
এবার দেখে নেওয়া যাক আমাদের এই কাহিনীর নায়কের কিছু তথ্য।


চরিত্র চিত্রণঃ-

মার্ভঃ--দানবিক মার্ভের উচ্চতা ৭'৯'' মাপের। একজন এক্স কনভিক্ট।যাকে মাঝেমধ্যেই কেডীর পাবে দেখা যায়।সে খুবই হিংস্র ও অস্থির মানসিক অবস্থার অধিকারী, সে মাঝেমধ্যেই হ্যালুসিনেট করে ও ভ্রম হয়,আর ওর গায়ের ক্ষতচিহ্নগুলো তার অনন্ত সংগ্রামের স্মৃতি।এক কথায় সে বেশ ভয়ঙ্কর।মার্ভ সিন সিটিতে বেশ বিখ্যাত থুড়ী কুখ্যাত,সে যা কাজ করে তার জন্যই তার সুনাম সিন সিটিতে,সেটা হল খুন।মার্ভ জন্মেছিল দ্য প্রজেক্টস্‌ এলাকায় আর তার শৈশব বেশ কষ্টে কেটেছে।সে তার মায়ের ব্যাপারে বেশ রক্ষণশীল।সে শহরের ভালো অঞ্চলে চলে যাওয়ায় তার মা বেশ দুঃখিত।প্রজেক্টস্‌ এ বেড়ে ওঠার কারনে সে প্রথম থেকেই বেশ শক্ত ছিল।স্কুলে মার্ভ এর একমাত্র বন্ধু ছিল চাক্‌,এক জড়বুদ্ধিসম্পন্ন ছেলে যে মার্ভকেও জিনিয়াস ভাবতো।মার্ভ এর কাছে একটা .৪৫ স্প্রিংফিল্ড আর্মারি এম১৯১১এ১ পিস্তল,এটা সে পেয়েছিল একটা মৃত ছেলের কাছে।স্কুলের এক মৃত বোনের নাম অনুসারে সেটার নাম দিয়েছিল গ্লেডীস।একবার মার্ভ ক্যাম্পে গিয়েছিল তারপর থেকেই সে প্রকৃতি ও গাছের প্রতি তার ক্ষোভ আছে। তার একমাত্র ভয় লাগতো গাছ আর প্রকৃতির অদ্ভুত শব্দে।

কিছু পরে মার্ভ আর্মিতে যোগ দিয়েছিল আর একটা নাম না জানা যুদ্ধে গিয়েছিল (সম্ভবত ভিয়েতনাম) যেখানেই তার ওই ক্ষতগুলো বেড়েছিল।অনেক পরে সে এক অসুখে ভোগে (পোস্ট ট্রোমাটিক ডিসঅর্ডার)।সে এজন্য ওষুধ খায়,সেটা সে লুসেলের থেকে পায়।একটা ভয় মার্ভকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়,সে এই অবস্থার থেকে না সাইকো কিলার হয়ে যায়।একবার সে লুসেল কে তার লেসবিয়ানিসমের জন্য সে ট্রিটমেন্ট করতে বলেছিল,বদলে তার জুটেছিল এক জবরদস্ত ঘুষি।
সিন সিটির বঙ্গানুবাদ সংখ্যার প্রচ্ছদ

আজ এ পর্যন্তই থাক আগামী পর্বে এ নিয়ে আরও কিছু আলোচনা করা যাবে।

এবার আগের পর্বে আমরা যা পড়েছি তার সার-সংক্ষেপ পড়ে নেবঃ-

সারসংক্ষেপঃ- গল্পের শুরুতে মার্ভ গোল্ডী নামে একটা মেয়ের সঙ্গে এক রাত্রিবাস করে। মার্ভ এর জীবনের সেরা রাত উপহার দিয়েছিল গোল্ডী।দুজনেই প্রচণ্ড মদ্যপ অবস্থায় ছিল।ঘন্টা তিনেক বাদে মার্ভ ঘুম থেকে উঠে দেখে পাশে পড়ে আছে গোল্ডীর নিথর মৃতদেহ।গায়ে কোনও আচড় নেই কেউ নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে তাকে খুন করে,মার্ভকে ফাঁসানোর জন্য।বাইরে পুলিশের গাড়ীর আওয়াজ পাওয়া যায়।সবাই আবার মার্ভ এর পেছনে পড়েছে।এবার শুরু হয় মার্ভ এর খেলা।কিছু পুলিশকে উত্তম মধ্যম দেওয়ার পরে সে একটা পুলিশের গাড়ী নিয়ে নদীর জলে লাফ দেয়...

আমরা আজ আপনার সামনে উপস্থাপন করতে চলেছি পাপের শহরঃ কঠিন বিদায় দ্বিতীয় পর্ব।

* সমস্ত তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

বিদ্রঃ এটি একটি অ্যাডাল্ট কমিক্সএরকম মাপের একটি সাইকোলজিক্যাল,এরটিক,ক্রাইম থ্রিলার গল্পের গভীরতা বোঝার জন্য পুরোপুরি পরিণত মস্তিষ্কের পাঠকের প্রয়োজন।এতে বেশিরভাগ উপাদান বড়োদের জন্যই সৃষ্ট।গল্পটির সাইকোলজি বাচ্চাদের (বড়দের তো অবশ্যই) মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য,এছাড়াও এতে অতিরিক্ত মাত্রায় নগ্নতা,অশ্লীল গালাগাল ও তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে।কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য তাই ১৮ বছরের কম বয়স্ক পাঠকদের এটি পড়তে নিষেধ করা হল।



 আজ পড়ুন পাপের শহর এর দ্বিতীয় পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে। 
অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।





বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।



আগামি পর্বে পড়ুন এই রোমহর্ষক গ্রাফিক অ্যালবামের তৃতীয় পর্ব,শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

শনিবার, জুলাই ১৬, ২০১৬

পোস্ট #০০৭ : পাপের শহর #০১

এ এক অন্য শহর...এটা প্রকৃতপক্ষেই পাপের শহর - সিন সিটি... 


সিন সিটির প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ
নিও-নয়ার (Neo-noir )আধুনিক চলচ্চিত্র ও অন্যান্য সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রে দৃষ্ট একটি বিশেষ প্রকারভেদ। এটিকে ফিল্ম নোয়া (Film noir) বলে।শব্দটির উৎস গ্রিক নিও (neo অর্থাৎ নতুন); এবং ফরাসি শব্দ নোয়া (noir অর্থাৎ, কালো) শব্দ দুটি। এই প্রকার ফিল্পে অপরাধ-জগৎ নিয়ে তৈরী থ্রিলার চলচ্চিত্রগুলোকে বোঝায়, বিশেষ করে যেগুলোতে হতাশাবাদী মনোভাব এবং যৌন প্রণোদনার উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এই সিনেমাগুলোর নির্মাণকাল ১৯৪০ থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত। সে যুগের নোয়া সিনেমাগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, লো-কি আলোকসজ্জা ব্যবহার করে সাদাকালো চিত্র ধারণ।এটাই এই প্রকারের বিশেষত্ব।এই রকমের একটি অদ্ভুত অপরাধমূলক একটি কমিক্স হচ্ছে ফ্রাঙ্ক মিলারের সিন সিটি।



সিন সিটির বঙ্গানুবাদ সংখ্যার প্রচ্ছদ
আমেরিকার পশ্চিমে বেসিন সিটি নামের এক অপরাধমুলক শহর এই কাহিনীর প্রেক্ষাপট।শহরের মাঝ-বরাবর বয়ে গেছে এক নদী।ঘন কালো তার জলের রঙ। সব সময়েই নরকের মতো গরমে দম বন্ধ হয়ে আসার যোগাড় শহরবাসীদের।অপরাধই হল এখানের প্রধান পেশা।অন্ধকার নামলেই পেল্লায় সব অট্টালিকার ছায়ায় নিঃশব্দে ঘুরে বেড়ায়
 ছায়ামানবেরা।এরা আঁধারের প্রানী,এই যেমন ধরুন জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ এক বক্সার,নোংরা অপরাধীরা,কোকেন ও ড্রাগস্‌ লর্ডেরা,নানা চোরাচালানকারী আর গনিকাদের দালালেরা।এরা অস্পস্ট হলেও কঠোর বাস্তব।পাপের এই বসতির নাম বেসিন সিটি। এই শহরকে সবাই ডাকে সিন সিটি বা পাপের শহর নামে।এখানে করনীয় যা কিছু আছে তা সব এখানে অপরাধ বলে গণ্য হয়,পুলিশ ও আইন এখানে হাস্যকর শব্দ।বন্ধুকই হল এখানে ক্ষমতার উৎস।


এই শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি চরিত্রকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সিন সিটির গল্প।এদের মধ্যে মার্ভ‌,ডূইট,ন্যান্সি,হ্যারিংটন,মিহো ও ওয়ালেস প্রধান।এদের নিয়ে নব্বইয়ের দশকে রোমহর্ষক নিও-নয়ার কাহিনী লেখেন একাধারে লেখক ও চিত্রশিল্পী ফ্রাঙ্ক মিলার। তিনি কমিক্স দুনিয়ার এক প্রবাদ প্রতিম ব্যক্তিত্ব।
আজ আমরা পড়বো সিন সিটির বাংলা অনুবাদ পাপের শহর।এটির অনেক গুলো গল্পের মধ্যে প্রথমটি হল দ্য হার্ড গুডবাই,নায়ক মার্ভ‌।আমরা আজ আপনার সামনে উপস্থাপন করতে চলেছি পাপের শহরঃ কঠিন বিদায় ।
লেখক ও চিত্রশিল্পী ফ্রাঙ্ক মিলার

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলীঃ-

নামঃ-  সিন সিটিঃ দ্য হার্ড গুডবাই
লেখক ও চিত্রশিল্পীঃ-ফ্রাঙ্ক মিলার
প্রকাশকঃ-ডার্ক হর্স কমিকস
প্রকাশকালঃ-১৯৯১ এপ্রিল(পঞ্চম বার্ষিক বিশেষ সংখ্যা),১৯৯১জুন -১৯৯২জুন পর্যন্ত
টাইপঃ-মাসিক, ২০০৫ এ কালেক্টেড এডিশান বের হয়।


* সমস্ত তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

বিদ্রঃ এটি একটি অ্যাডাল্ট কমিক্সএরকম মাপের একটি সাইকোলজিক্যাল,এরটিক,ক্রাইম থ্রিলার গল্পের গভীরতা বোঝার জন্য পুরোপুরি পরিণত মস্তিষ্কের পাঠকের প্রয়োজন।এতে বেশিরভাগ উপাদান বড়োদের জন্যই সৃষ্ট।গল্পটির সাইকোলজি বাচ্চাদের (বড়দের তো অবশ্যই) মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য,এছাড়াও এতে অতিরিক্ত মাত্রায় নগ্নতা,অশ্লীল গালাগাল ও তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে।কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য তাই ১৮ বছরের কম বয়স্ক পাঠকদের এটি পড়তে নিষেধ করা হল।



 আজ পড়ুন পাপের শহর এর প্রথম পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে। 
অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।



আগামি পর্বে পড়ুন এই রোমহর্ষক গ্রাফিক অ্যালবামের দ্বিতীয় পর্ব,শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...



বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।




মঙ্গলবার, মে ৩১, ২০১৬

পোস্ট #০০৬ : গলেরা আছেন চিত্রচোরে... অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল #০৩

অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস এর বাংলা সংস্করণ 

আগের সপ্তাহে আমরা আলোচনা করছিলাম গোসিনির অ্যাসটেরিক্সের অনুবাদের বিষয়ে। আজ আমরা তার পরবর্তী অ্যালবাম গুলির ওপরে আলোকপাত করবো। 1977 এ গোসিনির মৃত্যু হয়।সে সময় তারা অ্যাসটেরিক্স সিরিজের ২৪ তম অ্যালবাম "অ্যাসটেরিক্স ইন বেলজিয়াম" নিয়ে কাজ করছিলেন।এর কাজ অসমাপ্ত রেখেই গোসিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।বন্ধু বিয়োগের দুঃখে আলবার্ট এই অ্যালবামটি অসমাপ্তই রাখতে চেয়েছিলেন।কিন্তু সম্পাদক আইনের গুঁতো মেরে তাকে দিকে একরকম শেষ করাতে বাধ্য করেন।বিষণ্ণ আলবার্ট সেইজন্য তার বন্ধুকে স্মরণ করে বাকি কমিক অ্যালবামটির আকাশ মেঘলা করে দেন।

গোসিনির মৃত্যুর পর পাঠকদের অনুরোধে ইউদেরজো নিজেই কাহিনীর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে শুরু করেন। কিন্তু কমিকটির প্রকাশনা কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এই কাহিনীর বেশির ভাগ সমালোচক এবং ভক্তরা গোসিনির লেখাকেই পছন্দ করত। ইউদেরজো এসময় লে এডিশন Albert-René নামে নিজের একটি প্রকাশনা সংস্থা খোলেন। সেখান থেকে পরবর্তীতে ইউদেরজো নিজের লেখা এবং অঙ্কিত বইগুলি ছাপানো হয়। সম্পাদক বদলিয়ে ইউদেরজো নিজেই ১৯৭৯ তে লিখতে ও আঁকতে থাকেন "দ্য গ্রেট ডিভাইড" অ্যালবাম টি। এরপর এক এক করে আটটি কমিকস প্রকাশ করেন।

নিচে সেগুলির একটি তালিকা প্রদান করা হল-
ইয়ুদেরজোর করা কমিক অ্যালবামের তালিকা।

১৯৯০ সালে লেখকদ্বয়ের পরিবার স্বত্ব ফেরত পাবার জন্য দারগদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৮ সালে দীর্ঘস্থায়ী এক মামলার পর দারগদ কাহিনীগুলো প্রকাশ এবং বিক্রি করবার অধিকার হারিয়ে ফেলে। ইউদেরজো পরবর্তীতে আলবার্ট-রেন এর পরিবর্তে হ্যাচেটের কাছে স্বত্ব বিক্রয় করে দিলেও নতুন কাহিনী প্রকাশনার স্বত্ব আলবেয়ার ইউদেরজো (৪০%), সিলভিয়া ইউদেরজো (২০%) এবং অ্যান গোসিনি (৪০%) কাছেই রয়ে যায়।
যদিও ইউদেরজো প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর পরে এর আর কোন নতুন কাহিনী লেখা হবে না, যে ধরনের অনুরোধ হার্জ করে যান তার বিখ্যাত টিনটিনের অভিযান সম্পর্কে, কিন্তু ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হ্যাচেটের কাছে তার অংশ বিক্রয় (যারা তার কম্পানি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কমিক্সের স্বত্বের মালিকানা লাভ করেছে) করার পর তার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে দু’পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় ।
গোসিনি ও ইউদেরজো  ও কনর‍্যাড ও ফের্‌রী।
লে মণ্ডের কাছে লেখা এক চিঠির মাধ্যমে ইউদেরজো নিজের মেয়ে সিলভিয়া তার বাবার পারিবারিক প্রকাশনা কেন্দ্র বিক্রয় এবং তার মৃত্যুর পরেও অ্যাস্টেরিক্সের কাহিনী বের করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি লিখছেন, “...অ্যাস্টেরিক্সের সহলেখক, গল যোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আজ যোগ দিয়েছে রোমানদের সাথে- যারা শুধু কলকারখানা আর পয়সা বোঝে।” অ্যানে গোসিনি অবশ্য তার স্বত্ব একই সময়ে বিক্রয় এবং নতুন প্রকাশনা চালিয়ে যাবার অনুমতি দেন। কয়েকমাসের মধ্যেই ইউদেরজো নতুন কাহিনী রচনার কাজে তিনজন অঙ্কনশিল্পী, যারা তার সাথে অনেক দিন ধরে কাজ করেছিল তাদেরকে নিয়োগ করেন।

 এই নতুন অভিযানে নতুন টিমের হাতে ইউদেরজো দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ও তিনি অবসর নিয়েছেন। এই নতুন অ্যালবামে গল্প লিখেছেন ইভ্যেস ফের্‌রী ও ছবি এঁকেছেন দিদিয়ার কনর‍্যাড২০১৩ সালে প্রকাশিত হয় তাদের লেখা এই প্রথম গল্প "অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস" । এরপরে আরও একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয় সেটা এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ অ্যাসটেরিক্স কমিকস। অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য মিসিং স্ক্রোল।এটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।এটি সর্বাধিক বিক্রীত অ্যাসটেরিক্স কমিকস ও বটে। এটির সব ভাষা মিলিয়ে সর্বমোট ৪ মিলিয়নের বেশী কপি মুদ্রন হয়েছে।

আসুন দেখে নেই নতুন লেখক দ্বয়ের তালিকা -
নতুন জুটির করা কমিক অ্যালবামের তালিকা।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলীঃ-

নামঃ- অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস্‌
লেখকঃ-ইভ্যেস ফের্‌রী
চিত্রশিল্পীঃ-দিদিয়ার কনর‍্যাড
প্রকাশকঃ-অরিওন বুকস্‌
প্রকাশকালঃ-২০১৩
টাইপঃ-কমিক অ্যালব্যাম



* সমস্ত তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।  


 আজ পড়ুন অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল এর সম্পূর্ণ পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে। আগের দুটি পর্ব মিলিয়ে এই পর্বে পূর্ণাঙ্গ কমিক অ্যালবামটি একত্রে নিচের লিঙ্কে,এটি ডাউনলোড করলে আপনার আগের দুটি পর্ব না ডাউনলোড না করলেও চলবে।আপনাদের সুবিধার জন্য হাই কোয়ালিটি ও মোবাইল সংস্করণ।  

বিদ্রঃ এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী।তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।

 ডাউনলােড করুন(হাই কোয়ালিটি)

ডাউনলোড করুন (মোবাইল সংস্করণ)



বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।




মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০১৬

পোস্ট #০০৫ : গলেরা আছেন চিত্রচোরে... অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল #০২

ফ্রাঙ্কো-বেলজিয়াম কমিকসের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে হার্জের টিনটিন।তবে টিনটিনের পরেই জনপ্রিয়তার দিক থেকে দেখতে গেলে অ্যাসটেরিক্সের নাম সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। আমাদের বাঙ্গালী পাঠকদের কাছে টিনটিনের তুলনায় অ্যাসটেরিক্স অনেকটাই পিছিয়ে আছে। এর প্রধান কারন অনুবাদের অভাব। টিনটিনের সবকটি অ্যালবামের বাংলা অনুবাদ হয়েছে বাংলাতে এবং প্রকাশিত হয়েছে আনন্দ পাবলিশার্সের তরফ থেকে,একমাত্র হার্জের অসমাপ্ত টিনটিন অ্যান্ড দ্য আলফ আর্ট যেটা সুদীপ দা (সুদিপ দেব) বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন টিনটিন ও বর্ণশিল্প রহস্য নামে ,এছাড়াও তিনি টিনটিনের বাকি ভালো কয়েকটি ফ্যান ট্রিবিউট কমিকস ও অনুবাদ করেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে টিনটিন অনুবাদ একদম সম্পূর্ণ। সেই রকম অ্যাসটেরিক্স কে নিয়ে ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত মাত্র ১২ টি বই আনন্দ থেকে অফিশিয়ালি প্রকাশিত হয়েছে। শেষ প্রকাশিত বইয়ের নাম "অলিম্পিকের আসরে"। এছাড়া ফ্যান ট্রান্সলেশান ও হয়েছে বেশ কয়েকটি। সেগুলোর বেশিরভাগই ইয়ুদেরজোর লেখা গল্প গুলো নিয়ে বানানো। এগুলির একটা করেছিলেন মৈনাক দা ও পাঁচটা করেছে সাওন দত্ত। কিন্তু এদের আগে দুটি কমিকস অনুবাদ করেছিলেন দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, তিনি অলিম্পিকের আসরে অ্যালবামটি আনন্দের প্রকাশের আগে শেষ করেছিলেন,এছাড়াও অ্যাসটেরিক্স ও খোকা অনুবাদ করেন। সাওন আরও অনুবাদ করছে। আমি সেই জন্য এই করুন পরিণতির কথা ভেবে নতুন লেখক দ্বয়ের নতুন গল্প অ্যাসটেরিক্স অ্যান্ড পিক্টস অনুবাদ শুরু করি।এরপরে মিসিং স্ক্রোলটারও কাজ চলছে। এবার চলুন দেখে নেই অ্যাসটেরিক্স এর প্রকাশিত গল্প গুলোর তালিকায়।




আগামী সপ্তাহে আমরা ইয়ুদেরজোর গল্পগুলো ও নতুন লেখক দ্বয়ের গল্পগুলো নিয়ে আবার আলোচনা করবো। গত সপ্তাহে আপনারা পড়েছিলেন অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল প্রথম পর্ব আজ সেই কাহিনীর দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির চিত্রচোর।

** প্রথম ছবিটি অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস এর ইংরাজি ও বাংলা সংস্করণ এর ছবি।

 আজ পড়ুন অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল এর দ্বিতীয় পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে-



বিদ্রঃ এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী।তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।


ডাউনলোড করুন

আগামী সপ্তাহে অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল এর সম্পূর্ণ পর্ব পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...





বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।




মঙ্গলবার, মে ১৭, ২০১৬

পোস্ট #০০৪ : গলেরা এলেন চিত্রচোরে... অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল #০১


আমাদের সঙ্গে অ্যাসটেরিক্সের কথা হয়েছিলো গত সপ্তাহ দুয়েক আগে...অ্যাসটেরিক্স জানিয়েছিল তখনি আসবে আর চিত্রচোর থেকে ঘুরে যাবে। যাইহোক পরে ওদের পাঠানো পায়রার মাধ্যমে চিঠি পাই,তাতে অ্যাসটেরিক্স জানায় যে আচমকা রোমান আক্রমন ও এটাসেটামিক্সের শারীরিক অসুস্থতার কারনে ওনারা এখন আসতে পারছেন না,সপ্তাহ দুয়েক বাদে আসবেন। সেইমতো যে অ্যাসটেরিক্স ও ওবেলিক্স কথা রেখেছে, তাই তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।এখন কয়েক সপ্তাহ ওনারা আমাদের সঙ্গেই থাকবেন।

সে যাহোক এবার জেনে নেওয়া যাক অ্যাসটেরিক্সের গল্পের পেছনের কিছু ইতিহাস...



ইউদেরজো প্রথম যখন রেখাচিত্র অঙ্কন করেন তখন গল যোদ্ধাদের বৈশিষ্ট্য মোতাবেক অ্যাস্টেরিক্সকে বিশাল আকৃতির একজন শক্তিশালী যোদ্ধা হিসেবে চিত্রিত করেন। কিন্তু গোসিনির চিন্তাধারা ছিল অন্যরকম। তিনি অ্যাস্টেরিক্সকে একজন ক্ষুদ্রাকৃতির বুদ্ধিমান যোদ্ধা হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, যে শক্তির চাইতে বুদ্ধিমত্তাকে বেশি ব্যবহার করবে। তথাপি, ইউদেরজো মনে করেছিলেন এরকম ক্ষুদ্রাকৃতির নায়কের প্রয়োজন একজন অনুজ্জ্বল কিন্তু শক্তিশালী সহচর। ধারনাটি গোসিনির কাছেও ভালো লেগেছিল। আর তাই জন্ম নিলো ওবেলিক্স।যদিও এসময় অ্যাস্টেরিক্সের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছিল, কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পিলটের প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এসময় পিলটকে জর্জ দারগো কিনে নেয়।
 


গোসিনির মৃত্যুর পর পাঠকদের অনুরোধে ইউদেরজো নিজেই কাহিনীর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে শুরু করেন। কিন্তু কমিকটির প্রকাশনা কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এই কাহিনীর বেশির ভাগ সমালোচক এবং ভক্তরা গোসিনির লেখাকেই পছন্দ করত। ইউদেরজো এসময় লে এডিশন Albert-René নামে নিজের একটি প্রকাশনা সংস্থা খোলেন। সেখান থেকে পরবর্তীতে ইউদেরজো নিজের লেখা এবং অঙ্কিত বইগুলি ছাপানো হয়। যদিও,দারগো, সর্বপ্রথম কাহিনীগুলোর প্রকাশক, তারা
প্রথম ২৪টি কাহিনী যার লেখক ইউদেরজো এবং গোসিনি দু’জনেই, সেগুলো প্রকাশের স্বত্ব রেখে দিয়েছিল। ১৯৯০ সালে লেখকদ্বয়ের পরিবার স্বত্ব ফেরত পাবার জন্য দারগদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৮ সালে দীর্ঘস্থায়ী এক মামলার পর দারগদ কাহিনীগুলো প্রকাশ এবং বিক্রি করবার অধিকার হারিয়ে ফেলে। ইউদেরজো পরবর্তীতে আলবার্ট-রেন এর পরিবর্তে হ্যাচেটের কাছে স্বত্ব বিক্রয় করে দিলেও নতুন কাহিনী প্রকাশনার স্বত্ব আলবেয়ার ইউদেরজো (৪০%), সিলভিয়া ইউদেরজো (২০%) এবং অ্যান গোসিনি (৪০%) কাছেই রয়ে যায়।
যদিও ইউদেরজো প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর পরে এর আর কোন নতুন কাহিনী লেখা হবে না, যে ধরনের অনুরোধ হার্জ করে যান তার বিখ্যাত টিনটিনের অভিযান সম্পর্কে, কিন্তু ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হ্যাচেটের কাছে তার অংশ বিক্রয় (যারা তার কম্পানি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কমিক্সের স্বত্বের মালিকানা লাভ করেছে) করার পর তার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে দু’পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় ।
লে মণ্ডের কাছে লেখা এক চিঠির মাধ্যমে ইউদেরজো নিজের মেয়ে সিলভিয়া তার বাবার পারিবারিক প্রকাশনা কেন্দ্র বিক্রয় এবং তার মৃত্যুর পরেও অ্যাস্টেরিক্সের কাহিনী বের করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি লিখছেন, “...অ্যাস্টেরিক্সের সহলেখক, গল যোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আজ যোগ দিয়েছে রোমানদের সাথে- যারা শুধু কলকারখানা আর পয়সা বোঝে।” অ্যানে গোসিনি অবশ্য তার স্বত্ব একই সময়ে বিক্রয় এবং নতুন প্রকাশনা চালিয়ে যাবার অনুমতি দেন। কয়েকমাসের মধ্যেই ইউদেরজো নতুন কাহিনী রচনার কাজে তিনজন অঙ্কনশিল্পী, যারা তার সাথে অনেক দিন ধরে কাজ করেছিল তাদেরকে নিয়োগ দেন।


আজ আমরা যে গল্পটা পড়তে চলেছি সেটাই সর্বপ্রথম প্রকাশিত গল্প যাতে আসল স্রষ্টারা কাজ করেন নি। এই নতুন অভিযানে নতুন টিমের হাতে ইউদেরজো দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ও তিনি অবসর নিয়েছেন। এই নতুন অ্যালবামে গল্প লিখেছেন ইভ্যেস ফের্‌রী ও ছবি এঁকেছেন দিদিয়ার কনর‍্যাড২০১৩ সালে প্রকাশিত হয় তাদের লেখা এই প্রথম গল্প "অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস" ।আজ আমরা পরবো সেই "অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস" এর অনুবাদ "অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল"।


* সমস্ত তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত। 
** প্রথম ও দ্বিতীয় ছবিটি অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস এর ইংরাজি ও বাংলা সংস্করণ এর ছবি।
তৃতীয় ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে বাদিক থেকে প্রথম দুজন গোসিনি ও ইউদেরজো অ্যাসটেরিক্স ও ওবেলিক্স এর স্রষ্টা ও শেষ দুজন বর্তমান চিত্রশিল্পী ও লেখক যথাক্রমে কনর‍্যাড ও ফের্‌রী।

শেষ ছবিতে কনর‍্যাড ও ফের্‌রী তাদের প্রথম অ্যালবাম অ্যাসটেরিক্স এন্ড দ্য পিক্টস হাতে নিয়ে ছবি তুলেছেন।

আজ পড়ুন অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল এর প্রথম পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে-



বিদ্রঃ এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী।তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।


ডাউনলোড করুন

আগামী সপ্তাহে অ্যাসটেরিক্স ও পিক্ট দল এর দ্বিতীয় পর্ব পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

 




বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।



রবিবার, মে ০১, ২০১৬

পোস্ট #০০৩ : খুনে কৌতুক - অন্তিম পর্ব


ব্যাটম্যান : দ্য কিলিং জোক গ্রাফিক নভেলটির বাংলা অনুবাদ খুনে কৌতুক, আপনারা পড়ছিলেন গত দুই পর্ব ধরে। আজকে এই নভেলের তৃতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হলো চিত্রচোর। এই পর্বেই শেষ হয়ে যাচ্ছে খুনে কৌতুক। আগামী সপ্তাহে আমরা ফিরব এক নতুন গল্প নিয়ে। অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।

গত ২৫শে এপ্রিল, মানে আমাদের গত পোস্টের ২ দিন পরে ছিল জোকারের ৫০তম জন্মদিন ছিল। ১৯৪০ সালের ২৫শে এপ্রিল জোকার কমিক্সে প্রথম পদার্পণ করে। সেই জন্য আজকের পোস্টে এই সমগ্র গ্রাফিক নভেলটি তাকেই উৎসর্গ করা হলো।

ব্যাটম্যান : দ্য কিলিং জোক গ্রাফিক নভেলটি নিয়ে আগের দুটি পর্বে অনেক গল্প করেছি। আজকের আসরে একটু এর অ্যানিমেটেড অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে গল্প করা যাক।

ব্যাটম্যান : দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজে ব্যাটম্যানের কণ্ঠ প্রদান করেছিলেন কেভিন কনরয়, আর জোকারের কণ্ঠ প্রদান করেছিলেন স্টার ওয়ার্স-এর লুক স্কাইওয়াকার ওরফে বিখ্যাত মার্ক হেমিল। ওনাদের, বিশেষ করে হেমিলের কণ্ঠস্বরে জোকার এক অন্য মাত্রা পেয়েছিল। ব্যাটম্যান : দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজ ১৯৯২ থেকে শুরু হয়েছিল, চলে ১৯৯৫ পর্যন্ত। সেই সময় ডিসি অ্যানিমেটেড ইউনিভার্স সিরিজের আরও কয়েকটি সিরিজে ও পরেও এই সিরিজেরই কয়েকটি অ্যানিমেটেড মুভিতে এবং বেশ কিছু ভিডিও গেমে তিনি জোকারের কণ্ঠ প্রদান করেন। তিনি আর্কহাম অ্যাসাইলাম ও তার সিকুয়াল আর্কহাম সিটিতে শেষ জোকার হয়েছিলেন। হেমিল অ্যানি অ্যাওয়ার্ডস-এর ইন্টার‌্যাক্টিভ অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে আর স্পাইক ভিডিও গেম অ্যাওয়ার্ডস-এ জোকারের ভূমিকায় কণ্ঠ প্রদানের জন্য ২বার মনোনীত হন, এবং বেস্ট পারফর্মার হিসেবে জিতেছেন ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ভিডিও অ্যাওয়ার্ড।

২০১১ এর কমিক-কনে হেমিল জানিয়েছিলেন যদি কিলিং জোকের কোনো অ্যানিমেটেড অ্যাডাপ্টেশন করা হয় তবে তিনি সানন্দে আবার জোকারের ভূমিকায় ফিরবেন। ২০১৫তে হেমিল টুইট করেন যে, কিলিং জোকের কোনো অ্যানিমেটেড অ্যাডাপ্টেশন তাকে কাস্ট করা হবে, এবং জুলাই ২৭-এ কোলাইডার কনফার্ম করে যে, কিলিং জোকে মার্ক থাকছেন। কেভিন কনরয় এবং টারা স্ট্রং যথাক্রমে ব্যাটম্যানব্যাটগার্লের ভূমিকায় ফিরছেন। এটিই ডিসির প্রথম অ্যানিমেটেড অ্যাডাপ্টেশন হতে চলেছে যা R রেটেড হবে [আমাদের সেন্সর বোর্ড অনুযায়ী (A)]। এটি ডিভিডিতে মুক্তি পাবে সম্ভবত এই জুনে। আসুন দেখে নেই এর ট্রেলার :


১। প্রথম ছবিটি ব্যাটম্যান : দ্য কিলিং জোক অ্যানিমেটেড মুভির পোস্টার
২। দ্বিতীয় ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে বাঁ দিক থেকে মার্ক হেমিলকেভিন কনরয় জুটিকে কিলিং জোকের সেটে।

বি. দ্র. : এটি একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এটা পুরোপুরি পরিণত মস্তিষ্কের পাঠকের জন্য আদর্শ। এতে এমন কিছু উপাদান আছে যা বাচ্চাদের জন্য ঠিক নয়। এর বিশেষ কিছু উপাদান ও অর্ধনগ্ন দৃশ্য এবং গল্পটির সাইকোলজি বাচ্চাদের (বড়দের তো অবশ্যই) মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য। তাই ১৮ বছরের কম বয়স্ক পাঠকদের এটি পড়া অনুচিত

খুনে কৌতুক সম্পূর্ণ হওয়ার ফলে এটির তৃতীয় পর্বটি আলাদা করে না দিয়ে তিনটি পর্ব একত্রিত করে সম্পূর্ণ খুনে কৌতুক আপনাদের সামনে পেশ করা হলো। এটি ডাউনলোড করলে আপনার আগের দুটি পর্ব ডাউনলোড না করলেও চলবে।

ডাউনলোড করুন (হাই কোয়ালিটি)

ডাউনলোড করুন (মোবাইল সংস্করণ)

আগামী সপ্তাহে অদম্য গলেরা আসছেন! হ্যাঁ, আগামী সপ্তাহে আসছে অ্যাসটেরিক্স আর ওবেলিক্স, শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ