![]() |
| গোয়েন্দা রিপ কার্বি |
প্রথমেই সবাইকে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানাই। আজকে পোস্টটা করতে অনেক দেরি হয়ে গেল, আদৌ পোস্ট করার সুযোগ যে আজকে পাব, সেটা ভেবে উঠতে পারিনি। যাই হোক, আজকে একটু স্বাদবদল করার জন্য অন্য কমিক্স এনেছি, সেই অর্থে আজকে চিত্রচোরে এটা স্পেশাল পোস্ট।
হেডিং দেখে কি ভ্রুকুঞ্চিত হয়েছে? “প্রজেক্ট পুনরুদ্ধার” সেটা কি? - একটু পরেই উত্তর পাবেন।
আশা করি রিপ কার্বির সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না, যারা ইন্দ্রজাল কমিক্স পড়েছেন বা আনন্দবাজার পত্রিকায় কমিক্স স্ট্রিপগুলো পড়েন, তারা "গোয়েন্দা রিপ" সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানেন।
যারা জানেন না তাদের জন্য আরও একবার...
রিপ কার্বির নেপথ্যের তারকারা :
![]() |
| স্রষ্টা আলেক্স রেমন্ড |
রিপ কার্বির স্রষ্টা আমেরিকান কার্টুনিস্ট অ্যালেক্স রেমন্ড, যিনি ১৯৩৪ সালে কিং ফিচারস্ সিন্ডিকেটের হয়ে “ফ্ল্যাশ গর্ডন” কমিক্স সৃষ্টি করে বিশ্ববিখ্যাত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তিনি আর তাঁর আগের করা কিছু কমিক্স চরিত্র (ফ্ল্যাশ গর্ডন, জঙ্গল জিম, সিক্রেট এজেন্ট X-9) নিয়ে কাজ না করে এক প্রাক্তন নৌ-সেনা রিপ কার্বির কাজ শুরু করেন। রিপ ২য় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে প্রাইভেট ডিটেকটিভ হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। মাঝেমাঝে তাঁকে কাজে সাহায্য করতেন তার বান্ধবী ফ্যাশন মডেল জুডিথ “হনি” ডোরিয়ান (রেমন্ডের নিজের দেওয়া ও তিন মেয়ের ডাকনাম থেকে এই নামের উৎপত্তি) আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রিপের পরিচারক ডেসমন্ড।
সেই সময়ে কিং ফিচার্সের সম্পাদক ওয়ার্ড গ্রিন রেমন্ডকে একটা “ডিটেকটিভ-টাইপের” গোয়েন্দা চরিত্র সৃষ্টি করার পরামর্শ দেন, যেটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ৪ঠা মার্চ, সিন্ডিকেট বিভিন্ন পেইন্ট করা প্রমোশনাল আর্টের মাধ্যমে ব্যাপক হারে রিপের প্রমোশন করেছিল। স্ট্রিপটি খুব সফল হয়েছিল, আর এর জন্য ১৯৪৯ সালে রেমন্ড রুবেন অ্যাওয়ার্ড পান।
![]() |
| ভাবশিষ্য জন প্রেন্টিস |
![]() |
| তখনকার কে.এফ.এস. এর সম্পাদক ওয়ার্ড গ্রীন |
![]() |
| সহকারী শিল্পী আল উইলিয়ামসন |
![]() |
| সহকারি শিল্পী গ্রে মরো |
রিপ প্রায় পাঁচ দশক টানা চলেছিল, আর জন প্রেন্টিস একাই চল্লিশ বছরের ওপরে রিপ নিয়ে কাজ করেছিলেন। প্রকাশনার এত বছরে অনেক লেখক ও শিল্পীরা সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ফ্রাঙ্ক বয়েল (যিনি শেষ গল্পটি সমাপ্ত করেন), আল উইলিয়ামসন আর গ্রে মরো।
এবার আমরা জেনে নিই "প্রজেক্টঃপুনরুদ্ধার" কি?
না, ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই, এটা তেমন আহামরি বা মারাত্মক কিছু নয়। বিভিন্ন খবরের কাগজে ছোট ছোট কমিক্স একেকটা স্ট্রিপ থাকে যা সোম-শুক্র বা রবিবার এইরকম বিভিন্ন দিনে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়। যেমন আনন্দবাজারে এখন পাওয়া যায় অরণ্যদেব ও ম্যানড্রেক, আজকালে “মাকড়সার দুর্দান্ত কীর্তি” নামে স্পাইডার-ম্যান, বর্তমান পত্রিকায় টারজান ইত্যাদি। একসময় আনন্দবাজারে রিপ কার্বি প্রকাশিত হত, অমৃত পত্রিকায় একসময়ে মডেস্টি ব্লেজ বা আজকালে একসময় জেমস বন্ডের নিউজপেপার স্ট্রিপগুলো প্রকাশিত হত, আন্তর্জালে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা কিছু স্ট্রিপ যেগুলোর মান খুবই খারাপ সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করে নতুন প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে রাখাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হবে। এক্ষেত্রে আপনিও আপনার কাছে পুরনো কিছু স্ট্রিপ থাকলে তা আমাদের সাথে শেয়ার করে আপনার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। অনেক ব্লগার বন্ধুরা একসঙ্গে এটিতে অবদান রাখবেন, অনেকটা “ইন্দ্রজালের প্রত্যাবর্তন” এর মতো। এ বিষয়ে এবারের সংস্করণের ভেতরে অনুবাদকের পাতায় আরও কিছু তথ্য দেওয়া থাকল।
হ্যাঁ, সেই গোয়েন্দা রিপ আজ হাজির হয়েছেন, চিত্রচোরে।
ইন্দ্রজাল বা আনন্দবাজারে কখনো অ্যালেক্স রেমন্ডের করা রিপ প্রকাশিত হয়নি, যা হয়েছে সব জন প্রেন্টিসের গল্পগুলো, তাই আজ বাংলায় প্রথমবার গোয়েন্দা রিপের প্রথম অনুসন্ধান “দ্য চিপ ফ্যারাডে মার্ডার” এর বঙ্গানুবাদ “দরজার সামনে খুন” শুধুমাত্র চিত্রচোরে।
রিপের প্রথম অনুসন্ধানের কাহিনি পড়তে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।
গত এক পর্বে ডাউনলোড অপশন তুলে দেওয়ায় অনেকে আক্ষেপ করেছিলেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই আবার ডাউনলোড অপশন চালু করা হলো। কমিক্সটি পড়ার পর আপনার মতামত একান্ত কাম্য।
সম্পাদনা ও নামকরণ : ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল
প্রুফ সংশোধন : মোঃ আশিকুর রহমান
প্রচ্ছদপট রূপান্তর ও বর্ণ সংস্থাপন ও এডিট : রূপক ঘোষ
প্রুফ সংশোধন : মোঃ আশিকুর রহমান
প্রচ্ছদপট রূপান্তর ও বর্ণ সংস্থাপন ও এডিট : রূপক ঘোষ
আগামী পর্বে বোনেরা ফের ফিরবেন...




















