রূপক ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রূপক ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, জুলাই ০৫, ২০১৯

পোস্ট #০৩৯ : গোয়েন্দা রিপ_"প্রজেক্ট: পুনরুদ্ধার" #০১_স্পেশাল পোস্ট


গোয়েন্দা রিপ কার্বি

প্রথমেই সবাইকে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানাই। আজকে পোস্টটা করতে অনেক দেরি হয়ে গেল, আদৌ পোস্ট করার সুযোগ যে আজকে পাব, সেটা ভেবে উঠতে পারিনি। যাই হোক, আজকে একটু স্বাদবদল করার জন্য অন্য কমিক্স এনেছি, সেই অর্থে আজকে চিত্রচোরে এটা স্পেশাল পোস্ট।

হেডিং দেখে কি ভ্রুকুঞ্চিত হয়েছে? “প্রজেক্ট পুনরুদ্ধার” সেটা কি? - একটু পরেই উত্তর পাবেন।

আশা করি রিপ কার্বির সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না, যারা ইন্দ্রজাল কমিক্স পড়েছেন বা আনন্দবাজার পত্রিকায় কমিক্স স্ট্রিপগুলো পড়েন, তারা "গোয়েন্দা রিপ" সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানেন।

যারা জানেন না তাদের জন্য আরও একবার...

রিপ কার্বির নেপথ্যের তারকারা :


স্রষ্টা আলেক্স রেমন্ড

রিপ কার্বির স্রষ্টা আমেরিকান কার্টুনিস্ট অ্যালেক্স রেমন্ড, যিনি ১৯৩৪ সালে কিং ফিচারস্‌ সিন্ডিকেটের হয়ে “ফ্ল্যাশ গর্ডন” কমিক্স সৃষ্টি করে বিশ্ববিখ্যাত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে তিনি আর তাঁর আগের করা কিছু কমিক্স চরিত্র (ফ্ল্যাশ গর্ডন, জঙ্গল জিম, সিক্রেট এজেন্ট X-9) নিয়ে কাজ না করে এক প্রাক্তন নৌ-সেনা রিপ কার্বির কাজ শুরু করেন। রিপ ২য় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফিরে প্রাইভেট ডিটেকটিভ হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। মাঝেমাঝে তাঁকে কাজে সাহায্য করতেন তার বান্ধবী ফ্যাশন মডেল জুডিথ “হনি” ডোরিয়ান (রেমন্ডের নিজের দেওয়া ও তিন মেয়ের ডাকনাম থেকে এই নামের উৎপত্তি) আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রিপের পরিচারক ডেসমন্ড।

সেই সময়ে কিং ফিচার্সের সম্পাদক ওয়ার্ড গ্রিন রেমন্ডকে একটা “ডিটেকটিভ-টাইপের” গোয়েন্দা চরিত্র সৃষ্টি করার পরামর্শ দেন, যেটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ৪ঠা মার্চ, সিন্ডিকেট বিভিন্ন পেইন্ট করা প্রমোশনাল আর্টের মাধ্যমে ব্যাপক হারে রিপের প্রমোশন করেছিল। স্ট্রিপটি খুব সফল হয়েছিল, আর এর জন্য ১৯৪৯ সালে রেমন্ড রুবেন অ্যাওয়ার্ড পান।

ভাবশিষ্য জন প্রেন্টিস

রেমন্ডের এই স্ট্রিপে কাজ করার সময়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গল্পগুলো লিখতেন ওয়ার্ড গ্রিন আর গ্রিনের মৃত্যুর পর ফ্রেড ডিকেন্স‌ন। বেশ কিছু সিকোয়েন্স অবশ্য রেমন্ড নিজেই লিখেছিলেন। ১৯৫৬ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় রেমন্ডের মৃত্যু হয়। কিং ফিচার্সের তখন একজনকে রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন আর জন প্রেন্টিসকে পেয়ে যান। ডিকেন্সন আশির দশকের মাঝ বরাবর শারীরিক অসুস্থতার কারণে অবসর নিতে বাধ্য হন। প্রেন্টিস তারপর আঁকা-লেখা সব নিজেই সামলাতেন, তিনি ১৯৯৯ সালে নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রিপকে নিয়ে কাজ করে গেছেন। ১৯৯৯ সালের ২৬ শে জুন রিপ নিজে অবসর নেন। এই স্ট্রিপে কাজ করার জন্য প্রেন্টিস ন্যাশেনাল কার্টুনিস্টস্‌ সোসাইটি স্টোরি কমিক স্ট্রিপ অ্যাওয়ার্ড পান ১৯৬৬, ১৯৬৭ আর ১৯৮৬ সালে।

তখনকার কে.এফ.এস. এর সম্পাদক ওয়ার্ড গ্রীন 
সহকারী শিল্পী আল উইলিয়ামসন
সহকারি শিল্পী গ্রে মরো

রিপ প্রায় পাঁচ দশক টানা চলেছিল, আর জন প্রেন্টিস একাই চল্লিশ বছরের ওপরে রিপ নিয়ে কাজ করেছিলেন। প্রকাশনার এত বছরে অনেক লেখক ও শিল্পীরা সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ফ্রাঙ্ক বয়েল (যিনি শেষ গল্পটি সমাপ্ত করেন), আল উইলিয়ামসন আর গ্রে মরো।

এবার আমরা জেনে নিই "প্রজেক্টঃপুনরুদ্ধার" কি?


না, ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই, এটা তেমন আহামরি বা মারাত্মক কিছু নয়। বিভিন্ন খবরের কাগজে ছোট ছোট কমিক্স একেকটা স্ট্রিপ থাকে যা সোম-শুক্র বা রবিবার এইরকম বিভিন্ন দিনে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়। যেমন আনন্দবাজারে এখন পাওয়া যায় অরণ্যদেব ও ম্যানড্রেক, আজকালে “মাকড়সার দুর্দান্ত কীর্তি” নামে স্পাইডার-ম্যান, বর্তমান পত্রিকায় টারজান ইত্যাদি। একসময় আনন্দবাজারে রিপ কার্বি প্রকাশিত হত, অমৃত পত্রিকায় একসময়ে মডেস্টি ব্লেজ বা আজকালে একসময় জেমস বন্ডের নিউজপেপার স্ট্রিপগুলো প্রকাশিত হত, আন্তর্জালে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা কিছু স্ট্রিপ যেগুলোর মান খুবই খারাপ সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করে নতুন প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে রাখাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হবে। এক্ষেত্রে আপনিও আপনার কাছে পুরনো কিছু স্ট্রিপ থাকলে তা আমাদের সাথে শেয়ার করে আপনার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। অনেক ব্লগার বন্ধুরা একসঙ্গে এটিতে অবদান রাখবেন, অনেকটা “ইন্দ্রজালের প্রত্যাবর্তন” এর মতো। এ বিষয়ে এবারের সংস্করণের ভেতরে অনুবাদকের পাতায় আরও কিছু তথ্য দেওয়া থাকল।

হ্যাঁ, সেই গোয়েন্দা রিপ আজ হাজির হয়েছেন, চিত্রচোরে।

ইন্দ্রজাল বা আনন্দবাজারে কখনো অ্যালেক্স রেমন্ডের করা রিপ প্রকাশিত হয়নি, যা হয়েছে সব জন প্রেন্টিসের গল্পগুলো, তাই আজ বাংলায় প্রথমবার গোয়েন্দা রিপের প্রথম অনুসন্ধান “দ্য চিপ ফ্যারাডে মার্ডার” এর বঙ্গানুবাদ “দরজার সামনে খুন” শুধুমাত্র চিত্রচোরে।

রিপের প্রথম অনুসন্ধানের কাহিনি পড়তে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন।

গত এক পর্বে ডাউনলোড অপশন তুলে দেওয়ায় অনেকে আক্ষেপ করেছিলেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই আবার ডাউনলোড অপশন চালু করা হলো। কমিক্সটি পড়ার পর আপনার মতামত একান্ত কাম্য।

সম্পাদনা ও নামকরণ : ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল
প্রুফ সংশোধন : মোঃ আশিকুর রহমান
প্রচ্ছদপট রূপান্তর ও বর্ণ সংস্থাপন ও এডিট : রূপক ঘোষ

আগামী পর্বে বোনেরা ফের ফিরবেন...

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

পোস্ট #০৩৫ : ব্যাটম্যান : উত্থানের আগে...


মূল ইংরেজি সংস্করণের প্রচ্ছদ
আজ ২৩ শে জানুয়ারি, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রনায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী। এই শুভদিনে চিত্রচোরে আবার উপস্থিত হয়েছেন ব্যাটম্যান। আজ থেকে বছর দুয়েক আগেই তাকে দিয়েই শুরু হয়েছিল আমাদের পথচলা। ২০১৬ সালে “কিলিং জোকের” বঙ্গানুবাদ “খুনে কৌতুক” ডিজিটাল চিত্রচোর সংস্করণ থেকেই শুরু হয়েছিল আমাদের চিত্রচোরের অনুবাদ কমিক্স এর মজা। মাঝে দেখতে দেখতে দুটি বছর পেরিয়ে গেছে, অনেক পাঠকেরা আমাকে জানিয়েছিলেন আবার ব্যাটম্যান কবে আসবে, উত্তর দিয়েছিলাম কাজ চলছে, খুব তাড়াতাড়ি আবার হবে ব্যাটম্যানের উত্থান। ব্যাটম্যানকে নিয়ে বড় কিছু করার ইচ্ছা ছিল, তাই এ বছর ব্যাটম্যানকে নিয়ে অনেকগুলো পোস্ট করার ইচ্ছে আছে। আপনারা আরও নতুনভাবে তার শুরুর দিকের ঘটনার সাক্ষী হবেন।

ব্যাটম্যান আমার খুব পছন্দের একটা চরিত্র। ব্যাটম্যান সেই সাধারণ মানুষ, যিনি সাংঘাতিক সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে হেরে যাওয়া বাজি জিতে যান, একজন সাধারণ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও এই উন্মত্ত সমাজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিঃসঙ্কোচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ভয়কে জয় করেছেন, হয়তো ভয় বস্তুটাও এখন তাকেই ভয় পায়। ব্যাটম্যানের বিখ্যাত চিত্রোপন্যাসগুলো পড়লে আপনারও এরকম ধারণা আসতে পারে, কাহিনীগুলো এতটাই অনুপ্রেরণা যোগায়। আসলে চরিত্রটির মধ্যে এত স্তর আছে, সেটা প্রাপ্তমনস্ক পাঠকেরা যথার্থ ধরতে পারবেন। সেই জন্যই হয়তো ব্যাটম্যান আর সব চরিত্রদের থেকে আলাদা। তিনি নিছক একটা কাল্পনিক চরিত্র হয়েও আমাদের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন, যেন তিনি আমাদের মাথার ওপরে কোনও বিশাল ইমারতের কার্নিশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে সবার অগোচরে সবকিছু ঈশ্বরের মতো দেখছেন আর অপেক্ষা করছেন, কোনও অশুভ ইঙ্গিত দেখলেই রাতের বুক চিরে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

আজকের আমাদের দেশে দুর্নীতির ফলে সমাজের যা করুণ পরিণতি, তাতে মনে হয় সত্যিই যদি কেউ ব্যাটম্যানের মতো থাকতো তাহলে হয়তো দেশটার কিছু পরিবর্তন আসতো। তেমনি যদি আজ নেতাজির মতো মানুষ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারতবর্ষে থাকতেন, তাহলেও হয়তো আজকের এরকম অবস্থা হতো না, সেই কথা স্মরণ করেই এই বিশেষ দিনটিতে আবার ব্যাটম্যানকে ফিরিয়ে আনলাম।

যাই হোক এবার একটু গল্পটির সামান্য কিছু তথ্যের দিকে নজর দেওয়া যাক :

আজকের কমিক্সটি আমরা নিয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত "সিক্রেট অরিজিনস্‌" গ্রাফিক"দ্য ম্যান হু ফলস্‌" থেকে। যেটি অন্যান্য অনেকগুলি কমিক্সের মতোই ক্রিস্টোফার নোলানের "ডার্ক নাইট ট্রিলজি" -র চিত্রনাট্যের রেফারেন্স হিসেবে কাজ করেছিলো নভেলের প্রকাশিত ব্যাটম্যানের এই নতুন গল্পটি।

বইটির পশ্চাৎ প্রচ্ছদের আকর্ষণ
১৯৮৭ সালে ফ্র্যাঙ্ক মিলার ও ডেভিড মাজ্জুচ্চেলির ব্যাটম্যানঃ ইয়ার ওয়ান থেকে আধুনিক যুগের (মডার্ণ এজ) ব্যাটম্যান এর সূচনা হয়, ইয়ার ওয়ানে দর্শিত কাহিনীতে ব্রুস ওয়েন ১২ বছর বাদে তার নিজের শহর গথামে ফিরে এলেন, এবং কলুষিত গথামকে এক নতুন উপায়ের পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করলেন, হয়ে উঠলেন ব্যাটম্যান। কিন্তু সেখানেও বাকি থেকে গিয়েছিল বেশ কিছু প্রশ্নের, যেমন :

০১। কিভাবে পিতা মাতার মৃত্যুর পর ব্রুস  এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন?
০২। তিনি কোথা থেকে এবং কি কি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এই দীর্ঘ বারো বছর সময়ে?
০৩। কেন বাদুড় বা ব্যাটকেই তিনি বেছে নিলেন তার এই নতুন স্বত্বার স্মারক চিহ্ন রূপে?

উপরোক্ত সব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে পড়তে হবে ব্যাটম্যান -এর "গোপন সূত্রপাত" কমিকসটি।

বিঃ দ্রঃ এই বিষয়ের ইতিহাস নিয়ে আরও বিস্তারিত লেখা পাওয়া যাবে কমিকসটির ভেতরের "অনুবাদকের পাতা" থেকে।

পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন


আগামী পোস্টে আপনারা পড়বেন "ব্যাটম্যানঃ প্রথম বর্ষ" -এর প্রথম সংখ্যা।

পুনশ্চঃ সাধারণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে শেষের আগে কিছু কথা জানিয়ে রাখতে চাই।এই অনুবাদের কাজটা মোটেই তেমন সহজ কাজ নয়। একটা কমিকসকে আদ্য-পান্ত বাংলায় করতে গেলে অনুবাদের পাশাপাশি ছবিগুলোর ওপরের গ্রাফিক্স মুছে আবার বেশ কিছু রূপান্তর করতে হয়, সেটা আরও বেশি সময়সাপেক্ষ কাজ। গড়ে একটা ছোট কমিক্স অনুবাদ করতে যদি সপ্তাহ তিনেক সময় লাগে, আর দিনে যদি চার ঘণ্টা এর পেছনে ব্যয় করা হয় তবে সর্বমোট সময় দাঁড়াচ্ছে চুরাশি ঘণ্টা, কম বেশি করে ধরে নিলাম একটা সাধারণ কমিক্সের বাংলা সংস্করণ করতে সময় লাগছে সত্তর ঘণ্টা। তারপরে সেটার প্রুফ রিড এবং সম্পাদকের সময় এবং সেটির ভুলত্রুটি শোধরানোর জন্যও বেশ কিছু সময় যাচ্ছে। প্রতিবারেই আমাদের এই অতি তুচ্ছ কাজটাকে বিনামূল্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শুধু পাঠকদের কাছে একটাই অনুরোধ থাকে, তাদের মূল্যবান সময়ের মিনিট দু'য়েক সময় খরচ করে, ভালো-মন্দ মতামত জানিয়ে এবং কমিকসের অনুবাদের মান কেমন হচ্ছে তা জানিয়ে আমাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগানো। বলা বাহুল্য বেশ কিছু পোস্টের ফাইলটি ডাউনলোডের সংখ্যা ৬৫০+ অতিক্রম করলেও ১০-১২র বেশি মন্তব্য পড়ছে না, যা খুবই হতাশাজনক এবং এই কারণে চিত্রচোর ব্লগে বিদেশি কমিক্স নিজের মাতৃভাষায় পড়ার আনন্দ দানের উদ্দেশ্য থেকে কোনোরূপ বাধা না দিয়েই সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডাউনলোড অপশান তুলে দেওয়া হলো। আপনারা এবার থেকে আরো উন্নত পদ্ধতিতে অনলাইন গুগল ড্রাইভের লিঙ্কে নির্দ্বিধায় পড়তে পারবেন নতুন সব কমিকস। গুগল একাউন্ট থেকে লগ ইন করা থাক বা না থাক সেটা পড়তে কোনও সমস্যা হবে না। পাশে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপান্তর : রূপক ঘোষ
অনুবাদের মান উন্নয়ন, সম্পাদনা ও বিশেষ সহায়তা : ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান

সোমবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭

পোস্ট #০৩৩ : পাপের শহরে ফেরা - লাল বসনা সুন্দরী এবং অন্যান্য গল্প


প্রথমেই সবাইকে শুভ বড়দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজকে আমরা আবার পাড়ি দেব ফ্র্যাঙ্ক মিলারের বিখ্যাত সিন সিটির দুনিয়ায়। গত বছর চিত্রচোরে প্রকাশিত হয়েছিল সিন সিটি তথা পাপের শহরের প্রথম কাহিনী “দ্য হার্ড গুডবাই”-এর সম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলা সংস্করণ : কঠিন বিদায়। সেটা মুক্তি পাওয়ার পরেই অনেকে আবদার করেছিলেন যে, পরপর আরও সিন সিটির কমিক্স পড়তে চান। আমি সেখানে জানিয়েছিলাম যে, আগামী বছর অর্থাৎ এবছরে আরও নতুন পাপের শহরের গল্প আসবে। সময়ের অভাবে সেটা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই আমি “দ্য হার্ড গুডবাই”-এর পরের গল্প “এ ডেম টু কিল ফর” এবছর ধরতে পারিনি, তার পরিবর্তে শুরু করলাম এর পরের তিনটি ছোট গল্পের সংকলন “দ্য বেব হু ওর রেড”-এর বাংলা অনুবাদ। আজ সেটিই আপনারা সম্পূর্ণরূপে পড়বেন।

ফ্র্যাঙ্ক মিলারের সিন সিটির দুনিয়ায় গল্পগুলোকে ইয়ার্ন বলা হয়। ইয়ার্ন কথাটির অর্থ হলো গাঁজাখুরি গল্প বা গুল জাতীয় গল্প, সেক্ষেত্রে আমরা এটিকে “ব্রজদা’র” স্রষ্টা সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষের ভাষায় গুল + গল্প = গুল্প বলতে পারি। আমাদের বাংলা সাহিত্যে গুলবাজ দাদাদের সংখ্যা কম নয়, সবচেয়ে বিখ্যাত দু’জন হলেন টেনিদা, আর তিনি যাকে গুরু মানেন তিনি হলেন ঘনাদা। যাই হোক, আমরা প্রসঙ্গ থেকে সরে আসছি, আবার ফেরা যাক।

পাপের শহরের গুল্পগুলিতে প্রকাশকাল অনুসারে আরেকবার নজর বুলানো যাক :

নং ইংরেজি নাম বাংলা নাম মোট ইস্যু সংখ্যা কালেক্টেড এডিশান
০১।দ্য হার্ড গুডবাইকঠিন বিদায়১২দ্য হার্ড গুডবাই
০২।এ ডেম টু কিল ফর০৬এ ডেম টু কিল ফর
০৩।দ্য বেব হু ওর রেড এন্ড আদার স্টোরিজলাল বসনা সুন্দরী এবং অন্যান্য গল্প০১
ওয়ান-শট
বুজস্‌, ব্রডস, এন্ড বুলেটস্‌
০৪।দ্য বিগ ফ্যাট কিল০৫দ্য বিগ ফ্যাট কিল
০৫।সাইলেন্ট নাইট০১
ওয়ান-শট
বুজস্‌, ব্রডস, এন্ড বুলেটস্‌
০৬।দ্যাট ইয়লো বাস্টার্ড০৬দ্যাট ইয়লো বাস্টার্ড
০৭।ড্যাডি’স লিট্‌ল গার্লসিঙ্গেল ইস্যুবুজস্‌, ব্রডস, এন্ড বুলেটস্‌
০৮।লস্ট, লোনলি এন্ড লিথাল
০৯।সেক্স এন্ড ভায়োলেন্স
১০।জাস্ট এনাদার স্যাটার্ডে নাইট
১১।ফ্যামিলি ভ্যালুজ্‌গ্রাফিক নভেলফ্যামিলি ভ্যালুজ্‌
১২।হেল এন্ড ব্যাক০৯হেল এন্ড ব্যাক

আজ আপনারা পড়তে চলেছেন লিস্টের তিন নম্বর ইস্যুটি।



উইল আইজনারের নামানুসারে আইজনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়, বলা বাহুল্য এটি কমিক্সের ক্ষেত্রে অস্কারের সমতুল্য। ১৯৯৫ সালে এই কমিক্সটি বেস্ট শর্ট স্টোরির জন্য আইজনার পান ফ্র্যাঙ্ক মিলার। এছাড়াও ফ্র্যাঙ্কের ঝুলিতে আরও আইজনার সহ নানান পুরস্কারের কোনও কমতি নেই।

এতে তিনটি গল্প আছে, প্রধান গল্পটিতে আমরা ডোয়েট ম্যাক্‌কার্টিকে দেখতে পাই, শেষে ফার্মের কাছে লড়াইয়ের সময় সে ম্যারিকে জানায় এখানেই (ফার্মে) যে জঘন্য কাজকর্ম হয়েছিল, তার ফলে তার বন্ধুকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং এই গল্পটির সময় কাল কঠিন বিদায়ের প্রায় শেষের কিছুকাল আগে ঘটেছে, আর ডোয়েটের সেই বন্ধুটি আর কেউ নয় “কঠিন বিদায়”-এর নায়ক মার্ভ স্বয়ং।

সিন সিটিতে সব ক’টি গুল্পের মধ্যে ডোয়েটকে সবচেয়ে বেশিবার দেখা গেছে। একে নিয়ে মিলার ৫টি গল্প রচনা করেন।

সিনেমার পর্দায় ডোয়েটের চরিত্রে দু’জন অভিনয় করেছেন। প্রথম পার্টে ক্লাইভ ওয়েন আর দ্বিতীয় পার্টে জশ ব্রোলিন, শেষ পার্টে অর্থাৎ এ ডেম টু কিল ফর গল্পের শেষে দেখা যায় তার মুখে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে এবং তার পরেই ডোয়েটের মুখ বদলে যায়, এই সময় ওয়েনের একটি ক্যামিও করার কথা ছিল ডোয়েটের নতুন মুখের রূপে, কিন্তু অন্য একটি সিনেমার ব্যস্ততার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি, শেষ পর্যন্ত প্রস্থেটিক মেকআপ এফেক্টস্‌-এর সাহায্যে জশের মুখে পরিবর্তন আনা হয়।

আজ এই পর্যন্তই, এখানেই শেষ করছি। আপনারা পড়তে থাকুন।

বি. দ্র. : এটি একটি অ্যাডাল্ট কমিক্স। এরকম মাপের একটি সাইকোলজিক্যাল, এরোটিক, ক্রাইম থ্রিলার গল্পের গভীরতা বোঝার জন্য পুরোপুরি পরিণত মস্তিষ্কের পাঠকের প্রয়োজন। এতে বেশিরভাগ উপাদান বড়দের জন্যই সৃষ্ট। গল্পটির সাইকোলজি বাচ্চাদের (বড়দের তো অবশ্যই) মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য, এছাড়াও এতে অতিরিক্ত মাত্রায় নগ্নতা, অশ্লীল গালাগাল ও তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে যা কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। তাই ১৮ বছরের কম বয়স্ক পাঠকদের এটি পড়তে নিষেধ করা হলো

অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন। মনে রাখবেন আপনাদের উৎসাহই আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা।


আগামী পোস্টে পড়বেন মজার কমিক্স বিগল বয়েজ, শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান

শুক্রবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৭

Post #০৩১ লাকি লুক_পশ্চিম আকাশের নিচে # ০৩_ অন্তিম পর্ব


গত সপ্তাহে আপনারা পড়েছিলেন লাকি লুকের চতুর্থ অ্যালবামের প্রথম গল্প...

আজকে চিত্রচোরে লুকের শেষ দিন। আপনাদের ভালো লাগলে লুক আবার আসবে জানিয়েছে। আজ আপনারা পড়বেন লুকের সম্পূর্ণ চতুর্থ অ্যালবাম। আগের দিন আমরা জেনেছিলাম লুকের বাংলা অনুবাদের কিছু বৈশিষ্ট্য, আজ আমরা লুকের স্রষ্টাদের সম্পর্কে নতুন কিছু জানব।

চলুন শুরু করা যাক...

লাকি লুকের স্রষ্টা মরিস

মরিস : Maurice De Bevere এর ছদ্মনাম হিসেবে নামের প্রথম শব্দটি ব্যবহার করতেন বেলজিয়ামের বিখ্যাত এই কার্টুনিস্ট। বেলজিয়ামের Kortrijk শহরে ১৯২৩ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। অ্যালাস্টের বিখ্যাত জেস্যুট কলেজ থেকে তিনি পড়াশুনা করেন, সেখানের পোশাক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লাকি লুকের পোশাকের আইডিয়া তাঁর মাথায় আসে। মরিস গণিতের ক্লাসে, খাতার মার্জিনের ওপরে বিভিন্ন হিজিবিজি ছবি এঁকে ক্লাসগুলো কাটিয়ে দিতেন, এই দেখে তাঁর গণিতের শিক্ষক মরিসের বাবা-মা’কে ডেকে একবার বলেছিলেন, “এ ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ও কখনোই জীবনে সাফল্য পাবে না।” পরবর্তীতে মরিস Compagnie Belge d'Actualités (CBA) নামের একটি স্বল্প-আয়ুর অ্যানিমেশান স্টুডিয়োতে ছবি আঁকার কাজ শুরু করেন, সেখানেই পরিচয় হয় Peyo আর André Franquin এর সাথে। যুদ্ধের পরে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় আর মরিস ইলাস্ট্রেটর হিসেবে Het Laatste Nieuws নামের একটা ফ্লেমিস সংবাদপত্রে কাজ শুরু করেন। আর পাশাপাশি চলতে থাকে Le Moustique নামের এক ফরাসি ভাষার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের কাজ। এই ম্যাগাজিনের প্রকাশনা সংস্থা ছিল Dupuis, দ্যুপের হয়ে তিনি ২৫০-র অধিক প্রচ্ছদ আর ইলাস্ট্রেশান করেছিলেন, তার বেশিরভাগই ছিল বিভিন্ন চলচ্চিত্র তারকাদের ক্যারিকেচার।

লুকের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৪৬ সালের স্পিরু ম্যাগজিনে। প্রকাশনা সংস্থা সেই Dupuis। ফ্রান্সে হার্জের বিখ্যাত টিনটিন ম্যাগাজিন ছিল স্পিরুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। লুকের প্রথম অভিযান অ্যারিজোনা ১৮৮০, L'Almanach Spirouতে প্রকাশিত হয় সেটা ৭ই ডিসেম্বর ১৯৪৬ এ মুক্তি পেয়েছিল। মরিস স্পিরুর প্রধান চারজন আর্টিস্টের একজন হয়ে ওঠেন বেশ তাড়াতাড়ি। এই চার শিল্পীর যুগলবন্দীকে "La bande des quatre" বলা হত, বাকি তিনজন ছিলেন Jijé, André Franquin আর Will।

লুক আর মরিস পাশাপাশি, মরিস ছবি আঁকায় ব্যস্ত।

চারজনে বেশ ভালো বন্ধু ছিলেন, প্রত্যেকে পরস্পরকে সাহায্য করতেন। মরিস একক প্রচেষ্টায় লুককে নিয়ে ৯টি কমিক অ্যালবাম বানান, সেগুলোর সব ক’টি Dupuis থেকেই প্রকাশিত হয়। এরপর মরিস অ্যাসটেরিক্সের স্রষ্টা রেনে গসিনির সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন। এই দুজনের যুগলবন্দীতে সৃষ্টি লুকের অভিযানগুলি আরও বেশি সফলতা পায়। আমাদের বাংলায় পড়া লুকের অফিসিয়াল চারটে কমিক্স অ্যালবাম এই জুটির সৃষ্টি। এনাদের সময়কালকে এই সিরিজের স্বর্ণযুগ হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত গসিনি আর মরিস দু’জনে লাকি লুকের ২২টি অভিযানের সৃষ্টি করেন, সেগুলোর সবগুলি Dupuis থেকে প্রকাশিত হয়। ৩১টি অভিযান Dupuis থেকে প্রকাশের পর ষাটের দশকের মাঝামাঝি মরিস Dupuis আর স্পিরু ছেড়ে বন্ধু গসিনির প্রকাশনা সংস্থা দারগো আর পাইলট ম্যাগাজিনে যোগ দেন।

বাঁ দিকে অ্যাসটেরিক্সের আর পাশে লুকের অ্যালবাম হাতে নিয়ে গসিনি আর মরিস।

২০০১ সালে Pulmonary Embolism বা ফুসফুসে রক্ত ক্লট বাঁধায়, বুকের যন্ত্রণায় মরিসের মৃত্যু হয়। মরিসের মৃত্যুর পরেও অনেক শিল্পীরা লুককে বাঁচিয়ে রেখেছেন। লুক এখনও প্রকাশিত হয়।

শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে বাংলায় প্রকাশিত চারটি লাকি লুকের কমিক্সগুলিও মরিস আর গসিনির মিলিত সৃষ্টির ফসল।

চতুর্থ অ্যালবামের বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি :

নাম : Sous le ciel de l'Ouest (আন্ডার এ ওয়েস্টার্ন স্কাই)
লেখক ও চিত্রশিল্পী : মরিস
প্রকাশক : Dupuis
প্রকাশকাল : ১৯৫২
টাইপ : কমিক অ্যালব্যাম

বি. দ্র. : সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী।

এটি তিনটি গল্পের সংকলন। আপনার জন্য আজ থাকছে সম্পূর্ণ চিত্রচোর সংস্করণ। অনুবাদ যথাসম্ভব আগের লুকের অনুবাদের মতোই সরস রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, বাকিটা আপনারা ভালো বলতে পারবেন। আজ পড়ুন পশ্চিম আকাশের নিচে এর সম্পূর্ণ চিত্রচোর সংস্করণ শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে।

বি. দ্র. : এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী। তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।

ডাউনলোড করুন [হাই কোয়ালিটি]


ডাউনলোড করুন [মোবাইল কোয়ালিটি]


আগামী সপ্তাহে ইন্দ্রজালের প্রত্যাবর্তন #০২ পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...


বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান

রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭

পোস্ট #০৩০ : লাকি লুক এবার চিত্রচোরে... পশ্চিম আকাশের নিচে #০২


গত সপ্তাহে আপনারা পড়েছিলেন লাকি লুকের চতুর্থ অ্যালবামের দ্বিতীয় গল্প...

চতুর্থ অ্যালবামের বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

কথামতো আজকেও চিত্রচোরে লুক উপস্থিত। আজ আপনারা পড়বেন লুকের চতুর্থ অ্যালবামের প্রথম গল্প। আগের দিন আমরা লুকের কাহিনীর নেপথ্যের কিছু তথ্য জেনেছিলাম। আজকে আমরা জানবো, লুকের বাংলা অনুবাদের কিছু বৈশিষ্ট্য, আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক :

বাংলায় লুকের গল্পগুলির মধ্যে মাত্র চারটে গল্প প্রকাশিত হয়, শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে; তাও নব্বই এর মাঝখানে। সে সময়ে লুকের অ্যালবামগুলি প্রখ্যাত সাহিত্যিকেরা অনুবাদ করলেও তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি এবং মাত্র চারখানি অভিযানের পরেই বাংলায় লুকের পথচলা থেমে যায়। আজ এত বছর পরে সেই সব বইগুলির জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। লুকের প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে, সেই কমিক্স অ্যালবামগুলির আর পুনঃপ্রকাশ হয়নি। এখনো কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ার পুরনো দোকানে কখনো কখনো কোনও ভাগ্যবান পাঠক ও সংগ্রাহকেরা হঠাৎ খুঁজে পান সেই বইগুলি। আমার নিজের ভাগ্যেও বছর দুয়েক আগে ঘটেছিল সে রকম ঘটনা। চারটে বইয়ের মধ্যে মাত্র দুটো সৌভাগ্যক্রমে আমার হাতে আসে, এখনও বাকি দুটোর সন্ধান চলছে। সে যাই হোক, এবার দেখে নেই কবে থেকে অনুবাদ শুরু হয় ও কে কে কোন অ্যালবামগুলি অনুবাদ করেছিলেন...

শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে বাংলায় প্রকাশিত চারটি লাকি লুকের কমিকস্‌ সিরিজের প্রচ্ছদের ছবি

সব্বনেশে জেন : লীলা মজুমদারের অনুবাদে বাংলায় প্রথম লুকের আত্মপ্রকাশ। ১৯৯৪ সালে প্রথম লাকি লুকের অ্যালবাম “সব্বনেশে জেন” বা “Calamity Jane” শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে প্রকাশিত হয়। লীলা মজুমদারের অসাধারণ অনুবাদে তিনি আসল রচনার সেই কাউবয়দের ওল্ড ওয়েস্টের সময়কাল, প্রেক্ষাপট ও চরিত্রগুলিকে নিখুঁতভাবে বাংলায় সফল রূপদান করেছিলেন, সেই সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম হাস্যরসের মিশেল। প্রথম অ্যালবামের সব সংলাপগুলো টাইপড্‌ ফন্টেই করা হয়েছিল, আশেপাশের প্রেক্ষাপটের বেশ কিছু সাইনবোর্ড বা লেটারিং এর অংশগুলি হাতে লিখে করা হয়েছিল।

পুরো ডালটন পরিবার এক ফ্রেমে

মা ডালটন, ওয়েস্টার্ন সার্কাস ও ডাল্টনদের ডাক্তার : লীলা মজুমদারের পর এই সিরিজে অনুবাদের দায়িত্ব সামলান হীরেন চট্টোপাধ্যায়। বইগুলি যথাক্রমে ১৯৯৫, ১৯৯৭১৯৯৮ এ প্রকাশ পায়। মা ডালটনে প্রথম চার ডালটন ভায়েদের দেখা মেলে, যাদের নাম লুকের জগতের কুখ্যাত অপরাধীদের মধ্যে সবচেয়ে আগে আসে। এই চার ডালটন ভায়েরা হলেন যথাক্রমে জো, উইলিয়াম, জ্যাক আর অ্যাভারেল। লুক যতবারই এদের ধরে জেলে পোরে, ওরা জেল থেকে পালায়, ডালটন ভাইয়েরা লুকের ফ্যানেদের খুব পছন্দের একটি চরিত্র, মা ডালটন গল্পে ওদের মা এর দেখা পাই আমরা। এরপর বাংলায় আবার ডালটনেরা ফিরে আসে ডালটনদের ডাক্তার গল্পে। সেই গল্পে একজন মনের ডাক্তার ডালটনদের চিকিৎসা করে সুস্থ করার প্রচেষ্টা করেন। আর ওয়েস্টার্ন সার্কাস গল্পে লুক এক অসাধারণ সার্কাস পার্টির মুখোমুখি হয়। হীরেন চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদগুলিতে স্পিচ্ বাবলগুলোতে লেখা সংলাপগুলি পুরোটাই হাতে লিখে করা হত, যা অনুবাদে একটি আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছিল। হাতে লেখাগুলি লিখেছিলেন প্রণব সিকদার।

হারিয়ে যাওয়া এই কমিকস অ্যালবামগুলি নেটে পাওয়া যায়। পাঠকদের পড়ার ইচ্ছে থাকলে সেগুলো পরবর্তীতে এখানেও শেয়ার করা যেতে পারে...

আজ আমরা যে গল্পটা পড়তে চলেছি সেটা মরিসের একক প্রচেষ্টার চতুর্থ অ্যালবাম “Under a Western Sky” থেকে নেওয়া হয়েছে।

এটি তিনটি গল্পের সংকলন। আপনার জন্য আজ থাকছে তার মধ্যের প্রথম গল্পটি। অনুবাদ যথাসম্ভব আগের লুকের অনুবাদের মতোই সরস রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, বাকিটা আপনারা ভালো বলতে পারবেন। আজ পড়ুন পশ্চিম আকাশের নিচে এর দ্বিতীয় পর্ব শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে—



বি. দ্র. : এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী। তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।


ডাউনলোড করুন


আগামী সপ্তাহে “পশ্চিম আকাশের নিচে” এর তৃতীয় পর্ব পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...


বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান
বিশেষ সহায়তা : প্রতীক চক্রবর্তী

শুক্রবার, নভেম্বর ১০, ২০১৭

Post #০২৯ লাকি লুক এবার চিত্রচোরে...পশ্চিম আকাশের নিচে # ০১



আমাদের সঙ্গে লুকের কথা হয়েছিলো গত সপ্তাহে ...লুক জানিয়েছিল আসবে আর চিত্রচোর থেকে ঘুরে যাবে। সেইমতো লুক কথা রেখেছে, তাই তার অসংখ্য ধন্যবাদ।এখন কয়েক সপ্তাহ উনি আমাদের সঙ্গেই থাকবেন।




সে যাহোক এবার জেনে নেওয়া যাক লাকি লুকের গল্পের পেছনের কিছু ইতিহাস...






চতুর্থ অ্যালবামের ইংরাজি সংস্করনের প্রচ্ছদ
লাকি লুক একটা ওয়েস্টার্ন কমিক্স সিরিজ। বেলজিয়ান কার্টুনিস্ট মরিস ১৯৪৬ এ লুকের সৃষ্টি করেন। মরিস প্রথমে নিজেই গল্প লেখা আর আঁকার কাজ দুটোই করতেন,১৯৫৫ সালে উনি অ্যাসটেরিক্স এর সহ স্রষ্টা রেনে গোসিনির সাথে কাজ করা শুরু করেন। ২০০১ সালে মরিসের মৃত্যুর পর ফ্রেঞ্চ শিল্পী Achdé লুকের ছবি আঁকতে থাকেন।

গল্পের প্রেক্ষাপট আমেরিকার ওল্ড ওয়েস্টে।এই সিরিজে প্রধানত আমাদের পশ্চিমের দুর্ধর্ষ বন্দুকবাজ লাকি লুককেই দেখা যায়, যে নিজের ছায়ার চেয়েও গতিবেগে গুলি চালাতে সক্ষম, সর্বদা সাথে থাকে জলি জাম্পার বা বাংলা অনুবাদে টরটরে টাট্টু। লুককে এই সিরিজে নানান ভিলেনদের সঙ্গে লড়তে দেখা গেছে,তার মধ্যে বেশ কিছু কাল্পনিক আর কিছু আমেরিকার ইতিহাস ও গল্পকাহিনীর বেশ কিছু চরিত্রের দেখা মিলেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ডালটন ভাইয়েরা। গল্পগুলি হাস্যরসে পরিপূর্ণ যাতে পশ্চিমি সংস্কৃতির ছাপ লক্ষ্য করা যায়।


লাকি লুক  ইউরোপের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বাধিক বিক্রীত কমিক্স সিরিজের একটি।এটা ২৩টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। ২০১৭ পর্যন্ত এই সিরিজে মোট ৮৩ টি অ্যালবাম আছে।  লুকের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে অন্য শিল্পীদের তুলিতে আরও দুটো অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলায় লুকের চারটি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে। অনুবাদ করেছিলেন লীলা মজুমদার ও বাকি তিনটি হীরেন চট্টোপাধ্যায়। সেই অনুবাদ প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে আমাদের পরের পর্বে।



চতুর্থ অ্যালবামের বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

আজ আমরা যে গল্পটা পড়তে চলেছি সেটা মরিসের একক প্রচেষ্টার চতুর্থ অ্যালবাম "Under the Western Sky" থেকে নেওয়া হয়েছে।

এটি তিনটি গল্পের সংকলন। আপনার জন্য আজ থাকছে,তার মধ্যের দ্বিতীয় গল্পটি। অনুবাদ যথাসম্ভব আগের লুকের অনুবাদের মতোই সরস রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, বাকিরা আপনারা ভালো বলতে পারবেন।

* সমস্ত তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।
** প্রথম ও দ্বিতীয় ছবিটি পশ্চিম আকাশের নিচে এর ইংরাজি ও বাংলা সংস্করণ এর ছবি।




আজ পড়ুন  পশ্চিম আকাশের নিচে এর প্রথম পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে-



বিদ্রঃ এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী।তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।


ডাউনলোড করুন

আগামী সপ্তাহে "পশ্চিম আকাশের নিচে" এর দ্বিতীয় পর্ব পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

শুক্রবার, অক্টোবর ২০, ২০১৭

Post #0২৮ শেষ বেতাল...শেষ পর্ব #১৩


দিওয়ালী ধামাকা


বাইকে শুভ দীপাবলির শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আজকের পোস্ট। বহুকাল পরে আবার চিত্রচোর হাজির। এবারের পোস্টে থাকছে দিওয়ালী ধামাকা

এবার আপনার জন্য বহু প্রতীক্ষিত শেষ বেতালের শেষ পর্ব।


চিত্রচোরের প্রথা অনুযায়ী কোনও কাহিনী কয়েক পর্বে সমাপ্ত হলে সেই কাহিনীর শেষ পর্বে সমস্ত কাহিনীটিকে পুনরায় একত্রিত করে পরিবেশন করা হয়,আজও তার অন্যথা হবে না। 

তার আগে শেষ বারের মতো শেষ বেতালের কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাকঃ-

শেষ বেতাল চিত্রচোরে প্রথম শুরু হয় দেবীপক্ষের আগমনের সময় অর্থাৎ মহালয়ার দিন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর,২০১৬ থেকে। সেটা এখনো চলছিল।আমি নিজে ভেবেছিলাম যে এটা দীপাবলির মধ্যে শেষ করবো।অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ দিকে, এই পরিকল্টাপনাটা যে কোনও ভাবেই শেষ করা সম্ভব হয়নি সেটা এই ব্লগের পাঠকদের অজানা নয়।বরং বড়দিনে শেষ করার পরিকল্পনাতেও আমি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি।শেষ বেতাল যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে,আর সেই দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি তখনো ঘটেনি। এর যথেষ্ট কারনও ছিল, কারন শেষ বেতাল হচ্ছে চিত্রচোরের অনুদিত সর্ববৃহৎ অনুবাদ।এটা সম্পূর্ণ রূপে তিনশোর কিছু বেশি পাতার এক সম্পূর্ণ গ্রাফিক উপন্যাস।"দ্য লাস্ট ফ্যান্টমে তিন বছর ২০১০-২০১২ ধরে ১৩টি খন্ডে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়,ডায়নামাইট এন্টারটেনমেন্ট পাব্লিকেশান এর তরফ থেকে।সেটা এতোটা তাড়াতাড়ি একার পক্ষে অনুবাদ করাও কিন্ত খুব সহজ কাজ নয় বলেই মনে করি।সে যাই হোক,শুরু যখন করেছি তখন আমাকে শেষ তো করতেই হবে,আর সেটা শেষ করা আমার কর্তব্য। বছর পেরিয়ে আবার সেই দীপাবলীর দিন উপস্থিত। এবার আগে ভাগে ঢাক না পিটিয়ে চুপিচুপি এগোচ্ছিলাম,ইচ্ছা ছিল বিজয়ায় কিছু পোস্ট করার, সেটাও সম্ভব হয়নি। যাইহোক আগের ১২ টা  ইস্যুতে বানানের দিকে বহু ভুলভ্রান্তি ছিল এবার সেটাকে যথা সম্ভব ঠিক করে, একত্রিত করে তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। পড়তে থাকুন।


শেষ বেতাল বার্ষিকীর প্রচ্ছদ

  • শেষ বেতাল বার্ষিকী ঃ অপবিত্রের আক্রমণ



শেষ বেতাল সিরিজের প্রকাশকালে ২০১০-২০১২ র মধ্যে ২০১২ তে একটি মাত্র বার্ষিক সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এই সংখ্যার গল্পটি আমাদের মূল গল্পটির আগের কাহিনী, অর্থাৎ এটা পড়ে শুরু করতে হবে শেষ বেতাল প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড।


ডাউনলোড করুন [হাই কোয়ালিটি]





প্রথম খণ্ডঃ ভৌতিক পদভ্রমণ এর প্রচ্ছদ


  • শেষ বেতাল_প্রথম খন্ডঃ ভৌতিক পদভ্রমণ


এর আগে চিত্রচোরে পড়া শেষ বেতালের ০১-০৬ পর্ব নিয়ে ভৌতিক পদভ্রমণ শেষ হচ্ছে। আগের সব অনিচ্ছাকৃত ভুলভ্রান্তি যথাসম্ভব শুধরে নিয়ে* প্রথম ছয়টি পর্ব একত্রে সম্পূর্ণ সংশোধিত সংস্করণ রইলো আপনার জন্য।


ডাউনলোড করুন [হাই কোয়ালিটি]


ডাউনলোড করুন [মোবাইল কোয়ালিটি]



  • শেষ বেতাল_দ্বিতীয় খন্ডঃ অরণ্যের আইন


এর আগে চিত্রচোরে পড়া শেষ বেতালের ০৭-১২ পর্ব নিয়ে অরণ্যের আইন শেষ হচ্ছে। আগের সব অনিচ্ছাকৃত ভুলভ্রান্তি যথাসম্ভব শুধরে নিয়ে* শেষ ছয়টি পর্ব একত্রে সম্পূর্ণ সংশোধিত সংস্করণ রইলো আপনার জন্য।


ডাউনলোড করুন [হাই কোয়ালিটি]


ডাউনলোড করুন [মোবাইল কোয়ালিটি]


* শেষ বেতাল ০১-১২ সংখ্যাগুলির প্রুফ রিড করে আমাদের বানান সংশোধনে বিশেষ সহায়তা করেছেন চিত্রচোরের গুণমুগ্ধ পাঠক বন্ধু মোঃ আশিকুর রহমান। 


বিদ্রঃ এটি একটি টিন কমিকস। অর্থাৎ,টিনেজারদের বা তার চেয়ে বেশী বয়সের পাঠকদের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে।এটি অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম থ্রিলার গল্প।এতে কিছুক্ষেত্রে তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে,ও কিছুক্ষেত্রে কিছু স্বল্পবসনা চরিত্রের দৃশ্যগুলির ক্ষেত্রে অনেকের আপত্তি আসতে পারে ।তাই বাচ্চাদের অভিভাবকের উপস্থিতিতেই পড়ানো উচিত। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।



বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।
প্রুফ রিডিংঃ মোঃ আশিকুর রহমান।






শনিবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৭

Post #0২৬ বেতাল আছেন চিত্রচোরে...শেষ বেতাল #১২

বেতাল আছেন, এখনো ?? ...

অ্যালেক্স রসের করা  #১২ ইস্যুর প্রচ্ছদ
বাইকে ইংরাজি নতুন বছরে Happy New Year জানিয়ে আজকের পোষ্টটা শুরু করছি।যদিও জানি আমি এটা পোষ্ট করতে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছি।তবুও আজকের পোষ্ট এই বছরের প্রথম পোষ্ট তাই ভাবলাম,Happy New Year জানানোটা জরুরী।হ্যাঁ আবারও হয়তো নিরাশ করতে চলেছি এই ব্লগের কিছু পাঠকদের।এখনো একই জিনিষ নিয়েই বিরক্ত করবো সেটা হচ্ছে শেষ বেতাল

শেষ বেতাল চিত্রচোরে প্রথম শুরু হয় দেবীপক্ষের আগমনের সময় অর্থাৎ মহালয়ার দিন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর,২০১৬ থেকে। সেটা এখনো চলছে।আমি নিজে ভেবেছিলাম যে এটা দীপাবলির মধ্যে শেষ করবো।অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ দিকে, এই পরিকল্টাপনাটা যে কোনও ভাবেই শেষ করা সম্ভব হয়নি সেটা এই ব্লগের পাঠকদের অজানা নয়।বরং বড়দিনে শেষ করার পরিকল্পনাতেও আমি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি।শেষ বেতাল যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে,আর সেই দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি এখনো ঘটেনি। এর যথেষ্ট কারনও ছিল, কারন শেষ বেতাল হচ্ছে চিত্রচোরের অনুদিত সর্ববৃহৎ অনুবাদ।এটা সম্পূর্ণ রূপে তিনশোর কিছু বেশি পাতার এক সম্পূর্ণ গ্রাফিক উপন্যাস।"দ্য লাস্ট ফ্যান্টমে তিন বছর ২০১০-২০১২ ধরে ১৩টি খন্ডে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়,ডায়নামাইট এন্টারটেনমেন্ট পাব্লিকেশান এর তরফ থেকে।সেটা এতোটা তাড়াতাড়ি একার পক্ষে অনুবাদ করাও কিন্ত খুব সহজ কাজ নয় বলেই মনে করি।সে যাই হোক,শুরু যখন করেছি তখন আমাকে শেষ তো করতেই হবে,আর সেটা শেষ করা আমার কর্তব্য

#১২ সংখ্যার বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ
** প্রসঙ্গত একটা কথা জানিয়ে রাখা জরুরি যে আমার মনে হয় না,কোনও কমিকস ধারাবাহিকভাবে এতোটা দীর্ঘ চললে সবার সেইদিকে সমান মনোযোগ থাকে,বেশিরভাগ পাঠক সম্পূর্ণ গল্প চান (তার মধ্যে আমি নিজেকেও রাখি)। কে অপেক্ষা করবে ধারাবাহিকভাবে কমিকস পড়ার জন্য, যেখানে সমাপ্তি কবে হবে তার আগাম কোনও নিশ্চয়তা নেই।এর প্রভাব কমেন্টেও পড়তে বাধ্য,এটা আমার একটা ক্ষোভ বলতে পারেন,বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় কমেন্ট বক্স এ কমেন্ট এর সংখ্যা ২-৩ কি কখনোবা তাও নেই।এটা শুধু আমার ব্লগের ক্ষেত্রে বলছি না, এই বাংলায় যতগুলো ব্লগ আপনি দেখবেন,সব একই হাল,অথচ ডাউনলোডের হার কিন্ত বেড়ে চলে।অনেকে এটা বুঝতে পারেন না যে আপনাদের এই সামান্যতম বিনোদনের জন্য ব্লগারকে কতোটা পরিমান পরিশ্রম করতে হচ্ছে,তিনি করছেন কেন ? বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থের জন্য নয়,করছেন নিজের ভালোবাসার থেকে।হে সচেতন পাঠককুল একটু সজাগ হোন।অধিকাংশ পাঠকদের কখনো কি এটা মনে হয়না যে কি চলছে কেমন চলছে তা ব্লগারকে জানানো দরকার,উনি কি ভুল করছেন বা ঠিক করছেন সেটা পাঠকদের মুখ থেকেই যদি না জানতে পারেন,তবে তিনি সঠিকটা করবেন কি করে? হ্যাঁ অনেকের মনে হতে পারে অনেক জ্ঞান দিয়ে ফেলেছি,আবার অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন ভিক্ষা চাইছে।হা হা যদি সেটা মনে হয় তবেও আমার কিছু করার নেই। যাইহোক আজ অনেক হল জ্ঞান দান। এবার কাজের কথা শুরু করি...



তার আগে দেখে নেই এই সংখ্যার দুটি অতিরিক্ত ভ্যরিয়েন্ট কভারঃ-


স্টিফেন শ্যাডোস্কীর করা # ১২ ইস্যুর প্রচ্ছদ
জোনাথন লাউয়ের করা #১২ ইস্যুর প্রচ্ছদ


আপনারা তো জানেন,তবুও আরেকবার মনে করিয়ে দিই, এই সিরিজে মোট ১২ টি ইস্যু আছে।আর আছে একটি বার্ষিক ইস্যু।প্রতিটি ইস্যু একেকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা আছে। গল্পটা এতোটা চমকপ্রদ ও রোমহর্ষক যে চিত্রচোরের প্রথা ভঙ্গ করে একেকটি কমিক্সের ধারাবাহিক পর্বে ভাগ না করে অখন্ড একেকটি ইস্যু শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ আপনারা প্রতি পোস্টে একটা সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়েছেন।

আপনারা শেষ বেতালঃপ্রথম খন্ড "ভৌতিক পদভ্রমণ" পড়েছিলেন।যেটা ইস্যু ০১-০৬ পর্যন্ত সমাপ্ত
তারপর   শেষ বেতালঃ দ্বিতীয় খন্ড "অরণ্যের আইন" যেটা - ০৭-১২ তে সমাপ্ত।


আপনারা শেষ পড়েছিলেন একাদশ সংখ্যা আর আজ পড়বেন শেষ বেতালের দ্বাদশ সংখ্যা  
শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে-


বিদ্রঃ এটি একটি টিন কমিকস। অর্থাৎ,টিনেজারদের বা তার চেয়ে বেশী বয়সের পাঠকদের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে।এটি অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম থ্রিলার গল্প।এতে কিছুক্ষেত্রে তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে,ও কিছুক্ষেত্রে কিছু স্বল্পবসনা চরিত্রের ক্ষেত্রে অনেকের আপত্তি আসতে পারে ।তাই বাচ্চাদের অভিভাবকের উপস্থিতিতেই পড়ানো উচিত। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।








এরপর বাকি শুধু শেষ বেতালের শেষ বার্ষিক সংখ্যা।সেটা কবে সমাপ্ত হবে জানা নেই,আর আগের থেকে নির্দিষ্টভাবে বলাও এখন সম্ভব হচ্ছে না।


আগামী পর্বে
 তার আগে আশা করছি প্রথা ভেঙ্গে আরেকটি পোষ্ট করা হবে।সেটিও বেশ বড়ো প্রজেক্ট।স্বপ্নের প্রজেক্ট বলতে পারেন। সেটার নাম হচ্ছে ইন্দ্রজালের প্রত্যাবর্তন।টাইমস অফ ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত থেকে যে ইন্দ্রজাল কমিকস সেটা নিয়ে।ইন্দ্রজাল কমিকস শুরু হয় ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে,ইংরাজিতে শুরু হয় ফ্যান্টম দিয়েই ১৯৬৬ র জানুয়ারি থেকে প্রথম বাংলায় বেতালের আত্মপ্রকাশ।তাই ৬৪-৬৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ২২ টি ইন্দ্রজালের কখনো বাংলায় অফিশিয়ালি প্রকাশিত হয়নি।আমাদের মূল প্রয়াস হবে এই ২২ টি সংখ্যাকে আবার বাংলায় ফিরিয়ে আনা।কিছু কাজ আগেই হয়েছে ফ্যান-ট্রান্সলেশান হিসাবে,আর যেগুলো বাকি আছে সেগুলি আমরা কয়েকজন ব্লগার ও ইন্দ্রজাল ফ্যান মিলে ঠিক করেছি বাকিগুলো আমরা শেষ করবো সবাই মিলে (যারা আমার ফেসবুক প্রোফাইল এ আছেন তারা অনেক হয়তো জানবেন)।

সেই নিয়েই আলোচনা থাকবে আগামী পোষ্টে। 



বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।

প্রুফ রিডিংঃ মোঃ আশিকুর রহমান।



বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

Post #0২৫ বেতাল আছেন চিত্রচোরে...শেষ বেতাল # ১১

বেতাল আছেন...

অ্যালেক্স রসের করা # ১১ ইস্যুর প্রচ্ছদ
গতবার আপনারা শেষ বেতালের প্রথম খন্ড "ভৌতিক পদভ্রমণ" পড়েছিলেন।সপ্তম পর্বেই শুরু হয়েছিল শেষ বেতাল দ্বিতীয় খন্ড "অরণ্যের আইন"

এটিও ছয়টি সংখ্যায় বিভক্ত।আজ পড়বেন একাদশ সংখ্যা



অফিসের কাজের চাপ থাকার কারনে এতো বিলম্ব হয়ে গেল।আজ দশম সংখ্যা ছাড়তে পেরে বেশ স্বস্তি পেলাম, তবে যতক্ষণ না শেষ বেতাল শেষ হচ্ছে ততক্ষন নিশ্চিন্ত হতে পারছি না।যাইহোক পড়তে থাকুন।

বেতালের অভাব পুরণ করতে আমরা নিয়ে এসেছি ডায়নামাইট এন্টারটেনমেন্টের তরফ থেকে ২০১০ -২০১২ সালে "দ্য লাস্ট ফ্যান্টমের" বঙ্গানুবাদ "শেষ বেতাল"। বেতাল নামকরণ করার কারন আমার ব্যাক্তিগত মতে অরন্যদেবের তুলনায় বেতাল নামটাই বরং বেশী রোমহর্ষক লাগে,তাছাড়া ইন্দ্রজাল কমিকস আমার অবসেশান বলতে পারেন (এটা পড়া ও সংগ্রহ করা আমার অন্যতম পছন্দের বিষয়), সেইজন্য সেই নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতে ইন্দ্রজালের প্রতি শ্রদ্ধা অবিচল রেখে চিত্রচোরের বিন্ম্র নিবেদনঃ শেষ বেতাল।

# ১১ ইস্যুর মূল প্রচ্ছদের বাংলা সংস্করণ






এই সিরিজে মোট ১২ টি ইস্যু আছে।আর আছে একটি বার্ষিক ইস্যু।প্রতিটি ইস্যু একেকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা আছে। গল্পটা এতোটা চমকপ্রদ ও রোমহর্ষক যে চিত্রচোরের প্রথা ভঙ্গ করে একেকটি কমিক্সের ধারাবাহিক পর্বে ভাগ না করে অখন্ড একেকটি ইস্যু শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আপনারা প্রতি পোস্টে একটা সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়তে পারবেন।




গত পর্বে আপনারা পড়েছিলেন শেষ বেতালের দশম অধ্যায়।


**সপ্তম অধ্যায়ে শুরু হচ্ছে শেষ বেতালের দ্বিতীয় খন্ড।



এবার দেখে নেই এই সংখ্যার দুটি অতিরিক্ত ভ্যরিয়েন্ট কভারঃ-


স্টিফেন শ্যাডোস্কীর করা # ১১ ইস্যুর প্রচ্ছদ

জোনাথন লাউয়ের করা #১১ ইস্যুর প্রচ্ছদ




 


















আজ পড়ুন শেষ বেতাল এর একাদশ পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে-


বিদ্রঃ এটি একটি টিন কমিকস। অর্থাৎ,টিনেজারদের বা তার চেয়ে বেশী বয়সের পাঠকদের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে।এটি অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম থ্রিলার গল্প।এতে কিছুক্ষেত্রে তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে,ও কিছুক্ষেত্রে কিছু স্বল্পবসনা চরিত্রের ক্ষেত্রে অনেকের আপত্তি আসতে পারে ।তাই বাচ্চাদের অভিভাবকের উপস্থিতিতেই পড়ানো উচিত। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।




ডাউনলোড করুন



আগামী পর্বে শেষ বেতাল এর দ্বাদশ পর্ব পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...






বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়নঃ রূপক ঘোষ।
প্রুফ রিডিংঃ মোঃ আশিকুর রহমান।



মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬

Post #0২৪ বেতাল আছেন চিত্রচোরে...শেষ বেতাল # ১০

বেতাল আছেন...

অ্যালেক্স রসের করা # ১১ ইস্যুর প্রচ্ছদ
গতবার আপনারা শেষ বেতালের প্রথম খন্ড "ভৌতিক পদভ্রমণ" পড়েছিলেন।সপ্তম পর্বেই শুরু হয়েছিল শেষ বেতাল দ্বিতীয় খন্ড "অরণ্যের আইন"

এটিও ছয়টি সংখ্যায় বিভক্ত।আজ পড়বেন একাদশ সংখ্যা



অফিসের কাজের চাপ থাকার কারনে এতো বিলম্ব হয়ে গেল।আজ দশম সংখ্যা ছাড়তে পেরে বেশ স্বস্তি পেলাম, তবে যতক্ষণ না শেষ বেতাল শেষ হচ্ছে ততক্ষন নিশ্চিন্ত হতে পারছি না।যাইহোক পড়তে থাকুন।

বেতালের অভাব পুরণ করতে আমরা নিয়ে এসেছি ডায়নামাইট এন্টারটেনমেন্টের তরফ থেকে ২০১০ -২০১২ সালে "দ্য লাস্ট ফ্যান্টমের" বঙ্গানুবাদ "শেষ বেতাল"। বেতাল নামকরণ করার কারন আমার ব্যাক্তিগত মতে অরন্যদেবের তুলনায় বেতাল নামটাই বরং বেশী রোমহর্ষক লাগে,তাছাড়া ইন্দ্রজাল কমিকস আমার অবসেশান বলতে পারেন (এটা পড়া ও সংগ্রহ করা আমার অন্যতম পছন্দের বিষয়), সেইজন্য সেই নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতে ইন্দ্রজালের প্রতি শ্রদ্ধা অবিচল রেখে চিত্রচোরের বিন্ম্র নিবেদনঃ শেষ বেতাল।

# ১১ ইস্যুর মূল প্রচ্ছদের বাংলা সংস্করণ






এই সিরিজে মোট ১২ টি ইস্যু আছে।আর আছে একটি বার্ষিক ইস্যু।প্রতিটি ইস্যু একেকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা আছে। গল্পটা এতোটা চমকপ্রদ ও রোমহর্ষক যে চিত্রচোরের প্রথা ভঙ্গ করে একেকটি কমিক্সের ধারাবাহিক পর্বে ভাগ না করে অখন্ড একেকটি ইস্যু শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আপনারা প্রতি পোস্টে একটা সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়তে পারবেন।




গত পর্বে আপনারা পড়েছিলেন শেষ বেতালের দশম অধ্যায়।


**সপ্তম অধ্যায়ে শুরু হচ্ছে শেষ বেতালের দ্বিতীয় খন্ড।


এবার দেখে নেই এই সংখ্যার দুটি অতিরিক্ত ভ্যরিয়েন্ট কভারঃ-


স্টিফেন শ্যাডোস্কীর করা # ১১ ইস্যুর প্রচ্ছদ



জোনাথন লাউয়ের করা #১১ ইস্যুর প্রচ্ছদ


                               





















 আজ পড়ুন শেষ বেতাল এর একাদশ পর্ব শুধু মাত্র চিত্রচোর ব্লগে-

বিদ্রঃ এটি একটি টিন কমিকস। অর্থাৎ,টিনেজারদের বা তার চেয়ে বেশী বয়সের পাঠকদের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে।এটি অ্যাডভেঞ্চার, ক্রাইম থ্রিলার গল্প।এতে কিছুক্ষেত্রে তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে,ও কিছুক্ষেত্রে কিছু স্বল্পবসনা চরিত্রের ক্ষেত্রে অনেকের আপত্তি আসতে পারে ।তাই বাচ্চাদের অভিভাবকের উপস্থিতিতেই পড়ানো উচিত। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।




ডাউনলোড করুন



আগামী পর্বে শেষ বেতাল এর দ্বাদশ পর্ব পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...