শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯

পোস্ট #০৩৭ : বোনেরা আবার বাংলায়... #দ্বিতীয় পর্ব


গত পর্বে শুরু হয়েছিল জেফ স্মিথের বোন


বোন সিরিজের ইংরেজি #২ নং এর প্রচ্ছদ

এই কমিক্সটি অনুবাদ করছেন আমাদের সবার প্রিয় ইন্দ্রনীল’দা। অনেকে নতুন এই মজার কমিক্স কেমন লাগছে, তা কমেন্টে জানিয়েছেন। গত পর্বটি কেমন লেগেছে আমাদের জানান, আর এই ফাঁকে আজকে বোনেদের স্রষ্টার সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু কথা জেনে নেই...

জেফ স্মিথ; ২০১১ সালে তোলা ফটো।

বোনেদের স্রষ্টা :


বোনেদের স্রষ্টা হলেন অ্যামেরিকান কার্টুনিস্ট জেফ স্মিথ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ১৯৬০ সালে পেনসিলভেনিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন আর ওহিয়োতে বড় হন। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও উনি কার্টুনিং শিখেছিলেন বিভিন্ন কমিক স্ট্রিপ, কমিকবুক আর অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজ দেখে। চার্লস এম শ্যুলজ-এর পিনাট্‌স ওনার খুব পছন্দের সিরিজ ছিল, ছোটবেলায় ওনার বাবা ওকে পিনাট্‌স পড়ে শোনাতেন। এছাড়া কার্ল বার্ক্স-এর আঙ্কেল স্ক্রুজও ওনার খুব পছন্দের ছিল। বোনের সৃষ্টির পেছনে কাল বার্ক্সের আঙ্কেল স্ক্রুজেরও অনুপ্রেরণা কাজ করেছে। স্মিথ চাইতেন স্কুজের কোনো বড় অ্যাডভেঞ্চার হোক, বড় ধরনের অ্যাডভেঞ্চার গল্প ওনার বেশ ভালো লাগত। নয় বছর বয়সে স্মিথ ওয়াল্ট কেলি আর চাক জোন্সের কার্টুন “পোগো বার্থডে স্পেশাল” টিভিতে দেখেছিলেন, সেই প্রোগ্রামের পরদিন স্কুলের একটা মেয়ে বাবার পোগোর একটা বই এনে স্মিথকে দেয়, ওনার মতে এরপর থেকে ওটা দেখার পর ওনার কমিক্সের প্রতি ধারণাই বদলে যায়। স্মিথের কাছে সেই বইটি আজও তার টেবিলে ড্রয়িং বোর্ডের পাশে রাখা আছে, আর উনি কেলিকেই ওনার কমিক্স লেখার বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে মানেন।

ফ্র্যাঙ্ক মিলারের “ডার্ক নাইট রিটার্নস”, আর্ট স্পিগেলম্যানের “মাউস” আর অ্যালান মুরের “ওয়াচম্যান” দেখে তার মনের মধ্যেও নিজের একটা অ্যানিমেটেড টাইপের, কমিক্স মাধ্যমের একটা কাহিনী বানানোর ইচ্ছা জাগে, স্মিথ বোন বানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বোন সিরিজের বাংলা #২ নং এর প্রচ্ছদ

১৯৯১ সালে স্মিথ নিজের কার্টুন সিরিজের প্রকাশের জন্য কার্টুন বুকস নামের একটি প্রকাশনা কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে স্মিথ নিজেই সেলফ পাবলিশিং শুরু করেন, অর্থাৎ তাঁকে অর্থলগ্নি থেকে শুরু করে বণ্টন, চিঠিপত্রের উত্তর দেওয়া, সব ধরনের গ্রাফিক্সের ও লেটারিঙের কাজ (যেগুলো উনি নিজের হাতে করতেন), সব কিছু ছাপতে পাঠানো, সব অর্ডার নেওয়া ইত্যাদি সব কিছুই একা হাতে সামলাতে হত, এতে লেখা আর ছবি আঁকার জন্য ফোকাস করতে বেশ অসুবিধায় পড়েন, যার জন্য প্রোডাকশনের কাজ পিছিয়ে যেতে থাকে। তাই তিনি ওনার স্ত্রী বিজয়া আইয়ারকে সিলিকন ভ্যালির ভালো চাকরির থেকে ইস্তফা দিয়ে ওনাকে কার্টুন বুকস-এর প্রেসিডেন্টের পদে বসে তাকে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। ফলস্বরূপ স্মিথ আবার নিজের কাজে মন দিতে পারেন আর বিক্রি আরও বেড়ে যায়। ১৯৯১ থেকে শুরু করে স্মিথ ২০০৪ পর্যন্ত বোনের ৫৫টা ইস্যু প্রকাশ করেন। প্রথমে বোন সাদা কালো প্রকাশিত হত, এবং সেগুলো বেশ সফল ও জনপ্রিয় ছিল। পরবর্তীতে পুরোটা রঙিন ছাপা হয়। (চলবে...)

আজ এই পর্যন্তই, পরবর্তী পোস্টে এই নিয়ে আমরা আরও আলোচনা করব... আপাতত আজকে বোনের দ্বিতীয় পর্ব পড়তে থাকুন।


গত পর্বে ডাউনলোড অপশন তুলে দেওয়ায় অনেকে আক্ষেপ করেছিলেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই আবার ডাউনলোড অপশন চালু করা হলো। কমিক্সটি পড়ার পর আপনার মতামত একান্ত কাম্য।

অনুবাদ : ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল
প্রচ্ছদপট রূপান্তর ও বর্ণ সংস্থাপন : রূপক ঘোষ

পরবর্তী পর্বে বোনেরা ফের ফিরবে...

রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

পোস্ট #০৩৬ : বোনেরা এবার বাংলায়...


আজ পয়লা বৈশাখ।

এই নববর্ষ নবরূপে রাঙিয়ে দিক প্রতিটি মুহূর্ত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ হোক সকলের আগামী দিনগুলি... সকলকে শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই...
২০১৬ সালে পয়লা বৈশাখে শুরু হয়েছিল চিত্রচোরের পথচলা। সেই হিসেবে আজকের দিনেই চিত্রচোর তৃতীয় বর্ষে পা দিল। গত কয়েক বছরে আপনাদের মতো অনেক গুণমুগ্ধ অনুরাগীরাই চিত্রচোরের বড় প্রাপ্তি ও এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল কারণ।
অনেকদিন পর ফিরে এসে বেশ ভালো লাগছে। গত বছর অনেক প্ল্যান থাকলেও সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছর নানা কাজের চাপে শুরুর দিকের খান-দু’য়েক ছাড়া আর কোনো কিছু পোস্ট করতে পারিনি। আসলে একার পক্ষে অনুবাদ করা বেশ চাপের হয়ে যাচ্ছে। যদিও এর মধ্যে শুভাগত’দা, আশিকুর ভাই, ইন্দ্রনীল’দা, গৌতম’দা, বেদাংশু, স্বাগত’দা এবং আরও অনেকে অনুবাদ ছাড়াও নানাভাবে সাহায্য করেছেন, তবুও ভবিষ্যতে নতুন কেউ চিত্রচোরের জন্য কমিক্স অনুবাদ করতে চাইলে তাকেও স্বাগত জানাই।


হেডলাইন পড়ে অবাক হচ্ছেন বুঝি? তাহলে আজকের পোস্ট সম্পর্কে সামান্য কিছু কথা জানিয়ে রাখি :
এই বোন আমার আপনার বোনেদের কথা নয়, এটা জেফ স্মিথের বিখ্যাত কমিক্স চরিত্র “বোন”-দের কথা বলা হয়েছে। সে যাই হোক, এই বোনেদের সাথে আমার আলাপ ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল’দার মারফত।
একদিন ফেসবুক ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ দাদার প্রোফাইলে দাদার করা বোনের কিছু ফ্যান ট্রান্সলেশান দেখতে পাই, সেটা এক নিঃশ্বাসে শেষ করেছিলাম। তারপর বোনের বাকিগুলো ইংরেজিতে পড়েছি, কিন্তু সত্যি বলতে কি দাদার ভাবানুবাদ এতটা ভালো লেগেছিল যে, আমার মনে ইংরেজি ভার্সানটা অতটা দাগ কাটতে পারেনি। সেই থেকে ইন্দ্রনীল’দার পেছনে আদা জল খেয়ে পড়েছিলাম এটাকে শেষ করতেই হবে। অবশেষে নানা কাজের ফাঁকে সেই সুযোগ চলে এলো আর আমরা আবার শুরু করলাম “বোন”।
অয়ন রাহার “জিরো কমিক্স”-এর ফেসবুক পেজে একটা বিভাগ ছিল যেখানে বিভিন্ন কমিক্স চরিত্রদের নিয়ে ছোট একটি লেখা থাকত, সেই বিভাগের নাম ছিল “কমিক্সের ৭-১৭”, সেখানে ইন্দ্রনীল’দা বোনকে নিয়ে একবার লিখেছিলেন, সেটাই আরও একবার আপনাদের সামনে আনতে চাই :


এরকম আরও নানান আপডেট পাবেন এই ঠিকানায় : https://www.facebook.com/491098690942433/photos/?tab=album&album_id=576909192361382

স্রষ্টা আর তার সৃষ্টিকে নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা না হয় পরের পর্বে করা যাবে। আপাতত পড়তে থাকুন বোনের প্রথম পর্ব।


গত পর্বে ডাউনলোড অপশান তুলে দেওয়ায় অনেকে আক্ষেপ করেছিলেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই আবার ডাউনলোড অপশান চালু করা হলো। কমিক্সটি পড়ার পর আপনার মতামত একান্ত কাম্য।

অনুবাদ : ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল
প্রচ্ছদপট রূপান্তর ও বর্ণ সংস্থাপন : রূপক ঘোষ

পরবর্তী পর্বে বোনেরা ফের ফিরবে...

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

পোস্ট #০৩৫ : ব্যাটম্যান : উত্থানের আগে...


মূল ইংরেজি সংস্করণের প্রচ্ছদ
আজ ২৩ শে জানুয়ারি, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রনায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী। এই শুভদিনে চিত্রচোরে আবার উপস্থিত হয়েছেন ব্যাটম্যান। আজ থেকে বছর দুয়েক আগেই তাকে দিয়েই শুরু হয়েছিল আমাদের পথচলা। ২০১৬ সালে “কিলিং জোকের” বঙ্গানুবাদ “খুনে কৌতুক” ডিজিটাল চিত্রচোর সংস্করণ থেকেই শুরু হয়েছিল আমাদের চিত্রচোরের অনুবাদ কমিক্স এর মজা। মাঝে দেখতে দেখতে দুটি বছর পেরিয়ে গেছে, অনেক পাঠকেরা আমাকে জানিয়েছিলেন আবার ব্যাটম্যান কবে আসবে, উত্তর দিয়েছিলাম কাজ চলছে, খুব তাড়াতাড়ি আবার হবে ব্যাটম্যানের উত্থান। ব্যাটম্যানকে নিয়ে বড় কিছু করার ইচ্ছা ছিল, তাই এ বছর ব্যাটম্যানকে নিয়ে অনেকগুলো পোস্ট করার ইচ্ছে আছে। আপনারা আরও নতুনভাবে তার শুরুর দিকের ঘটনার সাক্ষী হবেন।

ব্যাটম্যান আমার খুব পছন্দের একটা চরিত্র। ব্যাটম্যান সেই সাধারণ মানুষ, যিনি সাংঘাতিক সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে হেরে যাওয়া বাজি জিতে যান, একজন সাধারণ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও এই উন্মত্ত সমাজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিঃসঙ্কোচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ভয়কে জয় করেছেন, হয়তো ভয় বস্তুটাও এখন তাকেই ভয় পায়। ব্যাটম্যানের বিখ্যাত চিত্রোপন্যাসগুলো পড়লে আপনারও এরকম ধারণা আসতে পারে, কাহিনীগুলো এতটাই অনুপ্রেরণা যোগায়। আসলে চরিত্রটির মধ্যে এত স্তর আছে, সেটা প্রাপ্তমনস্ক পাঠকেরা যথার্থ ধরতে পারবেন। সেই জন্যই হয়তো ব্যাটম্যান আর সব চরিত্রদের থেকে আলাদা। তিনি নিছক একটা কাল্পনিক চরিত্র হয়েও আমাদের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন, যেন তিনি আমাদের মাথার ওপরে কোনও বিশাল ইমারতের কার্নিশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে সবার অগোচরে সবকিছু ঈশ্বরের মতো দেখছেন আর অপেক্ষা করছেন, কোনও অশুভ ইঙ্গিত দেখলেই রাতের বুক চিরে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

আজকের আমাদের দেশে দুর্নীতির ফলে সমাজের যা করুণ পরিণতি, তাতে মনে হয় সত্যিই যদি কেউ ব্যাটম্যানের মতো থাকতো তাহলে হয়তো দেশটার কিছু পরিবর্তন আসতো। তেমনি যদি আজ নেতাজির মতো মানুষ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারতবর্ষে থাকতেন, তাহলেও হয়তো আজকের এরকম অবস্থা হতো না, সেই কথা স্মরণ করেই এই বিশেষ দিনটিতে আবার ব্যাটম্যানকে ফিরিয়ে আনলাম।

যাই হোক এবার একটু গল্পটির সামান্য কিছু তথ্যের দিকে নজর দেওয়া যাক :

আজকের কমিক্সটি আমরা নিয়েছি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত "সিক্রেট অরিজিনস্‌" গ্রাফিক"দ্য ম্যান হু ফলস্‌" থেকে। যেটি অন্যান্য অনেকগুলি কমিক্সের মতোই ক্রিস্টোফার নোলানের "ডার্ক নাইট ট্রিলজি" -র চিত্রনাট্যের রেফারেন্স হিসেবে কাজ করেছিলো নভেলের প্রকাশিত ব্যাটম্যানের এই নতুন গল্পটি।

বইটির পশ্চাৎ প্রচ্ছদের আকর্ষণ
১৯৮৭ সালে ফ্র্যাঙ্ক মিলার ও ডেভিড মাজ্জুচ্চেলির ব্যাটম্যানঃ ইয়ার ওয়ান থেকে আধুনিক যুগের (মডার্ণ এজ) ব্যাটম্যান এর সূচনা হয়, ইয়ার ওয়ানে দর্শিত কাহিনীতে ব্রুস ওয়েন ১২ বছর বাদে তার নিজের শহর গথামে ফিরে এলেন, এবং কলুষিত গথামকে এক নতুন উপায়ের পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করলেন, হয়ে উঠলেন ব্যাটম্যান। কিন্তু সেখানেও বাকি থেকে গিয়েছিল বেশ কিছু প্রশ্নের, যেমন :

০১। কিভাবে পিতা মাতার মৃত্যুর পর ব্রুস  এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন?
০২। তিনি কোথা থেকে এবং কি কি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এই দীর্ঘ বারো বছর সময়ে?
০৩। কেন বাদুড় বা ব্যাটকেই তিনি বেছে নিলেন তার এই নতুন স্বত্বার স্মারক চিহ্ন রূপে?

উপরোক্ত সব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে পড়তে হবে ব্যাটম্যান -এর "গোপন সূত্রপাত" কমিকসটি।

বিঃ দ্রঃ এই বিষয়ের ইতিহাস নিয়ে আরও বিস্তারিত লেখা পাওয়া যাবে কমিকসটির ভেতরের "অনুবাদকের পাতা" থেকে।

পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন


আগামী পোস্টে আপনারা পড়বেন "ব্যাটম্যানঃ প্রথম বর্ষ" -এর প্রথম সংখ্যা।

পুনশ্চঃ সাধারণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে শেষের আগে কিছু কথা জানিয়ে রাখতে চাই।এই অনুবাদের কাজটা মোটেই তেমন সহজ কাজ নয়। একটা কমিকসকে আদ্য-পান্ত বাংলায় করতে গেলে অনুবাদের পাশাপাশি ছবিগুলোর ওপরের গ্রাফিক্স মুছে আবার বেশ কিছু রূপান্তর করতে হয়, সেটা আরও বেশি সময়সাপেক্ষ কাজ। গড়ে একটা ছোট কমিক্স অনুবাদ করতে যদি সপ্তাহ তিনেক সময় লাগে, আর দিনে যদি চার ঘণ্টা এর পেছনে ব্যয় করা হয় তবে সর্বমোট সময় দাঁড়াচ্ছে চুরাশি ঘণ্টা, কম বেশি করে ধরে নিলাম একটা সাধারণ কমিক্সের বাংলা সংস্করণ করতে সময় লাগছে সত্তর ঘণ্টা। তারপরে সেটার প্রুফ রিড এবং সম্পাদকের সময় এবং সেটির ভুলত্রুটি শোধরানোর জন্যও বেশ কিছু সময় যাচ্ছে। প্রতিবারেই আমাদের এই অতি তুচ্ছ কাজটাকে বিনামূল্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শুধু পাঠকদের কাছে একটাই অনুরোধ থাকে, তাদের মূল্যবান সময়ের মিনিট দু'য়েক সময় খরচ করে, ভালো-মন্দ মতামত জানিয়ে এবং কমিকসের অনুবাদের মান কেমন হচ্ছে তা জানিয়ে আমাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগানো। বলা বাহুল্য বেশ কিছু পোস্টের ফাইলটি ডাউনলোডের সংখ্যা ৬৫০+ অতিক্রম করলেও ১০-১২র বেশি মন্তব্য পড়ছে না, যা খুবই হতাশাজনক এবং এই কারণে চিত্রচোর ব্লগে বিদেশি কমিক্স নিজের মাতৃভাষায় পড়ার আনন্দ দানের উদ্দেশ্য থেকে কোনোরূপ বাধা না দিয়েই সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডাউনলোড অপশান তুলে দেওয়া হলো। আপনারা এবার থেকে আরো উন্নত পদ্ধতিতে অনলাইন গুগল ড্রাইভের লিঙ্কে নির্দ্বিধায় পড়তে পারবেন নতুন সব কমিকস। গুগল একাউন্ট থেকে লগ ইন করা থাক বা না থাক সেটা পড়তে কোনও সমস্যা হবে না। পাশে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপান্তর : রূপক ঘোষ
অনুবাদের মান উন্নয়ন, সম্পাদনা ও বিশেষ সহায়তা : ইন্দ্রনীল কাঞ্জিলাল
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান

সোমবার, জানুয়ারি ০১, ২০১৮

পোস্ট #০৩৪ : বিগল বয়েজদের আগমন - জলদস্যুর শেষ বংশধর


শুরুতেই সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। আজ চিত্রচোরে হাজির হয়েছে বিগল বয়েজ

মূল ইংরেজি সংস্করণের প্রচ্ছদ

ডিজনির সৃষ্ট অমর কার্টুন চরিত্র “ডোনাল্ড ডাক”কে চেনে না, এরকম মানুষের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা হবে। সেই ডোনাল্ডের তিন ভাইপোকে মনে আছে নিশ্চয়ই? হিউই, ডিউই আর লুই। আমাদের ছোটবেলায় একটা খুব জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ হত “ডাকটেলস” বলে, সেটার কথা এক ঝলক মনে পড়ছে কি? ডাকবার্গে থাকতেন স্ক্রুজ ম্যাকডাক নামের এক ধনকুবের ব্যবসায়ী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ডাক। তিনি ছিলেন সম্পর্কে ডোনাল্ডের মেসো। তাঁর সাথেই থাকত সেই তিন দস্যি ভাইপো। আর আঙ্কেল স্ক্রুজের টাকা চুরি করার নানা রকম ছক কষত “বিগল বয়েজ” নামের ডাকাত ভাইয়েরা। ডোনাল্ড ডাকের দুনিয়াতে আঙ্কেল স্ক্রুজ ছিলেন দুনিয়ার সবচেয়ে কোটিপতি ডাক, একাধারে তাঁর তেলের খনি, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় কয়লাখনির মালিক, এছাড়া অন্যান্য ব্যবসা তো আছেই!

এনার স্রষ্টা হলেন কার্ল বার্কস। ডিজনি স্টুডিও ও ওয়েস্টার্ন পাবলিশিং-এর সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি ডাকবার্গসহ সেখানে বসবাসকারী অনেক চরিত্র সৃষ্টি করেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, স্ক্রুজ ম্যাকডাক (১৯৪৭), বিগল বয়েজ (১৯৫১), গায়েরো গিয়ারল্যুজ (১৯৫২) প্রভৃতি। ১৯৫১ সালের নভেম্বর মাসে “ওয়াল্ট ডিজনি’স কমিক্স এন্ড স্টোরিজ” এর ১৩৪ নম্বর ইস্যুতে একটি দশ পাতার গল্পে প্রথম বিগল বয়েজদের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

বিগল ভাইদের সাথে লাকি লুকের দুনিয়ার ডাল্টন ভাইদের বেশ মিল আছে। সাধারণত গল্প অনুযায়ী বিগল বয়েজদের গ্যাং-এ তিন থেকে শুরু করে দশজন ভাইদের দেখা যায়। এই বিগল বয়েজের জীবনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আঙ্কেল স্ক্রুজের টাকা ডাকাতি করে নিজেদের বিলাসিতার পেছনে খরচ করা! কিন্তু কোনও না কোনও মজার উপায়ে তারা প্রতিবারেই ব্যর্থ হয়।

আজ আপনারা পড়বেন ২০১২তে ডিজনি কমিক্স থেকে প্রকাশিত বিগল বয়েজের নতুন এক অভিযান “The Last Pirate” এর বাংলা অনুবাদ “জলদস্যুর শেষ বংশধর”।

এটা আমার প্রথম অনুবাদ। তাই আশা করব, অনুবাদের ক্ষেত্রে আমার ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং গঠনমূলক সমালোচনা করে ভুলগুলো শোধরাতে সাহায্য করবেন।

বি. দ্র. : এই কমিক্সটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী। তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন লাগলো পড়ে জানাতে ভুলবেন না যেন!


আগামী পোস্টে ব্যাটম্যান আবার ফিরবে, শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : মোঃ আশিকুর রহমান

সোমবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭

পোস্ট #০৩৩ : পাপের শহরে ফেরা - লাল বসনা সুন্দরী এবং অন্যান্য গল্প


প্রথমেই সবাইকে শুভ বড়দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজকে আমরা আবার পাড়ি দেব ফ্র্যাঙ্ক মিলারের বিখ্যাত সিন সিটির দুনিয়ায়। গত বছর চিত্রচোরে প্রকাশিত হয়েছিল সিন সিটি তথা পাপের শহরের প্রথম কাহিনী “দ্য হার্ড গুডবাই”-এর সম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলা সংস্করণ : কঠিন বিদায়। সেটা মুক্তি পাওয়ার পরেই অনেকে আবদার করেছিলেন যে, পরপর আরও সিন সিটির কমিক্স পড়তে চান। আমি সেখানে জানিয়েছিলাম যে, আগামী বছর অর্থাৎ এবছরে আরও নতুন পাপের শহরের গল্প আসবে। সময়ের অভাবে সেটা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই আমি “দ্য হার্ড গুডবাই”-এর পরের গল্প “এ ডেম টু কিল ফর” এবছর ধরতে পারিনি, তার পরিবর্তে শুরু করলাম এর পরের তিনটি ছোট গল্পের সংকলন “দ্য বেব হু ওর রেড”-এর বাংলা অনুবাদ। আজ সেটিই আপনারা সম্পূর্ণরূপে পড়বেন।

ফ্র্যাঙ্ক মিলারের সিন সিটির দুনিয়ায় গল্পগুলোকে ইয়ার্ন বলা হয়। ইয়ার্ন কথাটির অর্থ হলো গাঁজাখুরি গল্প বা গুল জাতীয় গল্প, সেক্ষেত্রে আমরা এটিকে “ব্রজদা’র” স্রষ্টা সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষের ভাষায় গুল + গল্প = গুল্প বলতে পারি। আমাদের বাংলা সাহিত্যে গুলবাজ দাদাদের সংখ্যা কম নয়, সবচেয়ে বিখ্যাত দু’জন হলেন টেনিদা, আর তিনি যাকে গুরু মানেন তিনি হলেন ঘনাদা। যাই হোক, আমরা প্রসঙ্গ থেকে সরে আসছি, আবার ফেরা যাক।

পাপের শহরের গুল্পগুলিতে প্রকাশকাল অনুসারে আরেকবার নজর বুলানো যাক :

নং ইংরেজি নাম বাংলা নাম মোট ইস্যু সংখ্যা কালেক্টেড এডিশান
০১।দ্য হার্ড গুডবাইকঠিন বিদায়১২দ্য হার্ড গুডবাই
০২।এ ডেম টু কিল ফর০৬এ ডেম টু কিল ফর
০৩।দ্য বেব হু ওর রেড এন্ড আদার স্টোরিজলাল বসনা সুন্দরী এবং অন্যান্য গল্প০১
ওয়ান-শট
বুজস্‌, ব্রডস, এন্ড বুলেটস্‌
০৪।দ্য বিগ ফ্যাট কিল০৫দ্য বিগ ফ্যাট কিল
০৫।সাইলেন্ট নাইট০১
ওয়ান-শট
বুজস্‌, ব্রডস, এন্ড বুলেটস্‌
০৬।দ্যাট ইয়লো বাস্টার্ড০৬দ্যাট ইয়লো বাস্টার্ড
০৭।ড্যাডি’স লিট্‌ল গার্লসিঙ্গেল ইস্যুবুজস্‌, ব্রডস, এন্ড বুলেটস্‌
০৮।লস্ট, লোনলি এন্ড লিথাল
০৯।সেক্স এন্ড ভায়োলেন্স
১০।জাস্ট এনাদার স্যাটার্ডে নাইট
১১।ফ্যামিলি ভ্যালুজ্‌গ্রাফিক নভেলফ্যামিলি ভ্যালুজ্‌
১২।হেল এন্ড ব্যাক০৯হেল এন্ড ব্যাক

আজ আপনারা পড়তে চলেছেন লিস্টের তিন নম্বর ইস্যুটি।



উইল আইজনারের নামানুসারে আইজনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়, বলা বাহুল্য এটি কমিক্সের ক্ষেত্রে অস্কারের সমতুল্য। ১৯৯৫ সালে এই কমিক্সটি বেস্ট শর্ট স্টোরির জন্য আইজনার পান ফ্র্যাঙ্ক মিলার। এছাড়াও ফ্র্যাঙ্কের ঝুলিতে আরও আইজনার সহ নানান পুরস্কারের কোনও কমতি নেই।

এতে তিনটি গল্প আছে, প্রধান গল্পটিতে আমরা ডোয়েট ম্যাক্‌কার্টিকে দেখতে পাই, শেষে ফার্মের কাছে লড়াইয়ের সময় সে ম্যারিকে জানায় এখানেই (ফার্মে) যে জঘন্য কাজকর্ম হয়েছিল, তার ফলে তার বন্ধুকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং এই গল্পটির সময় কাল কঠিন বিদায়ের প্রায় শেষের কিছুকাল আগে ঘটেছে, আর ডোয়েটের সেই বন্ধুটি আর কেউ নয় “কঠিন বিদায়”-এর নায়ক মার্ভ স্বয়ং।

সিন সিটিতে সব ক’টি গুল্পের মধ্যে ডোয়েটকে সবচেয়ে বেশিবার দেখা গেছে। একে নিয়ে মিলার ৫টি গল্প রচনা করেন।

সিনেমার পর্দায় ডোয়েটের চরিত্রে দু’জন অভিনয় করেছেন। প্রথম পার্টে ক্লাইভ ওয়েন আর দ্বিতীয় পার্টে জশ ব্রোলিন, শেষ পার্টে অর্থাৎ এ ডেম টু কিল ফর গল্পের শেষে দেখা যায় তার মুখে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে এবং তার পরেই ডোয়েটের মুখ বদলে যায়, এই সময় ওয়েনের একটি ক্যামিও করার কথা ছিল ডোয়েটের নতুন মুখের রূপে, কিন্তু অন্য একটি সিনেমার ব্যস্ততার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি, শেষ পর্যন্ত প্রস্থেটিক মেকআপ এফেক্টস্‌-এর সাহায্যে জশের মুখে পরিবর্তন আনা হয়।

আজ এই পর্যন্তই, এখানেই শেষ করছি। আপনারা পড়তে থাকুন।

বি. দ্র. : এটি একটি অ্যাডাল্ট কমিক্স। এরকম মাপের একটি সাইকোলজিক্যাল, এরোটিক, ক্রাইম থ্রিলার গল্পের গভীরতা বোঝার জন্য পুরোপুরি পরিণত মস্তিষ্কের পাঠকের প্রয়োজন। এতে বেশিরভাগ উপাদান বড়দের জন্যই সৃষ্ট। গল্পটির সাইকোলজি বাচ্চাদের (বড়দের তো অবশ্যই) মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য, এছাড়াও এতে অতিরিক্ত মাত্রায় নগ্নতা, অশ্লীল গালাগাল ও তীব্র নৃশংসতা দেখানো হয়েছে যা কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। তাই ১৮ বছরের কম বয়স্ক পাঠকদের এটি পড়তে নিষেধ করা হলো

অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন। মনে রাখবেন আপনাদের উৎসাহই আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা।


আগামী পোস্টে পড়বেন মজার কমিক্স বিগল বয়েজ, শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান

সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

Post #০৩২ ইন্দ্রজালের প্রত্যাবর্তন # ০২_নরখাদক গাছ


ভলিউম ০১ সংখ্যা ০৭ এর ইংরেজি সংস্করণ

গতবার অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, ২০১৭ তে চিত্রচোরের প্রথম বর্ষপূর্তিতে আপনারা পড়েছিলেন শুভাগত দা’র অনুবাদে ইন্দ্রজালের ভলিউম ০২ এর ০৮ নম্বর সংখ্যা “The Golden Princess” এর বঙ্গানুবাদ “সোনালী রাজকুমারী”। এবার আপনারা পড়তে চলেছেন ওনারই অনুদিত ভলিউম ১ এর ৭ নম্বর সংখ্যা “The Man-Eating Plant” এর বাংলা সংস্করণ “নরখাদক গাছ”। এটি আগে শুভাগত দা কিস্তিতে কিস্তিতে ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন, ব্লগে আগের পোস্টে বলা ছিল। সেটাই আমাদের জন্য এবার সম্পূর্ণরূপে উপহার দিলেন।

যারা আগের পোস্ট পড়েননি, তাদের উদ্দেশ্যে আরও একবার জানিয়ে রাখি :

ভলিউম ০১ সংখ্যা ০৭ এর বাংলা সংস্করণ

টাইমস অফ ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও সর্বাধিক বিক্রিত কমিকসের নাম ইন্দ্রজাল কমিকস। ইন্দ্রজাল কমিকস শুরু হয় ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে, ইংরেজিতে শুরু হয় ফ্যান্টম দিয়েই ১৯৬৬ র জানুয়ারি থেকে প্রথম বাংলায় বেতালের আত্মপ্রকাশ। তাই ৬৪-৬৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ২২টি ইন্দ্রজালের কখনো বাংলায় অফিশিয়ালি প্রকাশিত হয়নি। আমাদের মূল প্রয়াস হবে এই ২২টি সংখ্যাকে আবার বাংলায় ফিরিয়ে আনা। কিছু কাজ আগেই হয়েছে ফ্যান-ট্রান্সলেশান হিসাবে, আর যেগুলো বাকি আছে, আমরা কয়েকজন ব্লগার ও ইন্দ্রজাল ফ্যান ঠিক করেছি সেগুলো শেষ করবো সবাই মিলে (যারা আমার ফেসবুক প্রোফাইলে আছেন, তারা অনেকে হয়তো জানবেন)।

আজকে আর বেশি কিছু বলার নেই, এই সংখ্যাটি অনুবাদ করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় শুভাগত বন্দ্যোপাধ্যায় দাদা, তাই সমস্ত ধন্যবাদ ও ভালোবাসা তাঁর প্রাপ্য।

পড়ার পর পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। মনে রাখবেন আপনাদের উৎসাহই আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা। তাই উৎসাহ না থাকলে পথ চলা থমকে যেতেই পারে। যাই হোক, বেশি কথা না বাড়িয়ে আজ এখানেই শেষ করলাম।

কমিক্স পড়ুন, কমিক্স কিনুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

আজ পড়বেন ইন্দ্রজাল কমিকসের খন্ড ০১ সংখ্যা ০৭ “নরখাদক গাছ” শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...

বি. দ্র. : এই কমিকসটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী। তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান।

ডাউনলোড করুন

পরবর্তী পোস্টে আমরা নতুন একটি মজার কমিক্স পড়বো।


বাংলায় অনুবাদ : শুভাগত বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ

শুক্রবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৭

Post #০৩১ লাকি লুক_পশ্চিম আকাশের নিচে # ০৩_ অন্তিম পর্ব


গত সপ্তাহে আপনারা পড়েছিলেন লাকি লুকের চতুর্থ অ্যালবামের প্রথম গল্প...

আজকে চিত্রচোরে লুকের শেষ দিন। আপনাদের ভালো লাগলে লুক আবার আসবে জানিয়েছে। আজ আপনারা পড়বেন লুকের সম্পূর্ণ চতুর্থ অ্যালবাম। আগের দিন আমরা জেনেছিলাম লুকের বাংলা অনুবাদের কিছু বৈশিষ্ট্য, আজ আমরা লুকের স্রষ্টাদের সম্পর্কে নতুন কিছু জানব।

চলুন শুরু করা যাক...

লাকি লুকের স্রষ্টা মরিস

মরিস : Maurice De Bevere এর ছদ্মনাম হিসেবে নামের প্রথম শব্দটি ব্যবহার করতেন বেলজিয়ামের বিখ্যাত এই কার্টুনিস্ট। বেলজিয়ামের Kortrijk শহরে ১৯২৩ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। অ্যালাস্টের বিখ্যাত জেস্যুট কলেজ থেকে তিনি পড়াশুনা করেন, সেখানের পোশাক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লাকি লুকের পোশাকের আইডিয়া তাঁর মাথায় আসে। মরিস গণিতের ক্লাসে, খাতার মার্জিনের ওপরে বিভিন্ন হিজিবিজি ছবি এঁকে ক্লাসগুলো কাটিয়ে দিতেন, এই দেখে তাঁর গণিতের শিক্ষক মরিসের বাবা-মা’কে ডেকে একবার বলেছিলেন, “এ ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ও কখনোই জীবনে সাফল্য পাবে না।” পরবর্তীতে মরিস Compagnie Belge d'Actualités (CBA) নামের একটি স্বল্প-আয়ুর অ্যানিমেশান স্টুডিয়োতে ছবি আঁকার কাজ শুরু করেন, সেখানেই পরিচয় হয় Peyo আর André Franquin এর সাথে। যুদ্ধের পরে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় আর মরিস ইলাস্ট্রেটর হিসেবে Het Laatste Nieuws নামের একটা ফ্লেমিস সংবাদপত্রে কাজ শুরু করেন। আর পাশাপাশি চলতে থাকে Le Moustique নামের এক ফরাসি ভাষার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের কাজ। এই ম্যাগাজিনের প্রকাশনা সংস্থা ছিল Dupuis, দ্যুপের হয়ে তিনি ২৫০-র অধিক প্রচ্ছদ আর ইলাস্ট্রেশান করেছিলেন, তার বেশিরভাগই ছিল বিভিন্ন চলচ্চিত্র তারকাদের ক্যারিকেচার।

লুকের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৪৬ সালের স্পিরু ম্যাগজিনে। প্রকাশনা সংস্থা সেই Dupuis। ফ্রান্সে হার্জের বিখ্যাত টিনটিন ম্যাগাজিন ছিল স্পিরুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। লুকের প্রথম অভিযান অ্যারিজোনা ১৮৮০, L'Almanach Spirouতে প্রকাশিত হয় সেটা ৭ই ডিসেম্বর ১৯৪৬ এ মুক্তি পেয়েছিল। মরিস স্পিরুর প্রধান চারজন আর্টিস্টের একজন হয়ে ওঠেন বেশ তাড়াতাড়ি। এই চার শিল্পীর যুগলবন্দীকে "La bande des quatre" বলা হত, বাকি তিনজন ছিলেন Jijé, André Franquin আর Will।

লুক আর মরিস পাশাপাশি, মরিস ছবি আঁকায় ব্যস্ত।

চারজনে বেশ ভালো বন্ধু ছিলেন, প্রত্যেকে পরস্পরকে সাহায্য করতেন। মরিস একক প্রচেষ্টায় লুককে নিয়ে ৯টি কমিক অ্যালবাম বানান, সেগুলোর সব ক’টি Dupuis থেকেই প্রকাশিত হয়। এরপর মরিস অ্যাসটেরিক্সের স্রষ্টা রেনে গসিনির সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন। এই দুজনের যুগলবন্দীতে সৃষ্টি লুকের অভিযানগুলি আরও বেশি সফলতা পায়। আমাদের বাংলায় পড়া লুকের অফিসিয়াল চারটে কমিক্স অ্যালবাম এই জুটির সৃষ্টি। এনাদের সময়কালকে এই সিরিজের স্বর্ণযুগ হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত গসিনি আর মরিস দু’জনে লাকি লুকের ২২টি অভিযানের সৃষ্টি করেন, সেগুলোর সবগুলি Dupuis থেকে প্রকাশিত হয়। ৩১টি অভিযান Dupuis থেকে প্রকাশের পর ষাটের দশকের মাঝামাঝি মরিস Dupuis আর স্পিরু ছেড়ে বন্ধু গসিনির প্রকাশনা সংস্থা দারগো আর পাইলট ম্যাগাজিনে যোগ দেন।

বাঁ দিকে অ্যাসটেরিক্সের আর পাশে লুকের অ্যালবাম হাতে নিয়ে গসিনি আর মরিস।

২০০১ সালে Pulmonary Embolism বা ফুসফুসে রক্ত ক্লট বাঁধায়, বুকের যন্ত্রণায় মরিসের মৃত্যু হয়। মরিসের মৃত্যুর পরেও অনেক শিল্পীরা লুককে বাঁচিয়ে রেখেছেন। লুক এখনও প্রকাশিত হয়।

শিশু সাহিত্য সংসদ থেকে বাংলায় প্রকাশিত চারটি লাকি লুকের কমিক্সগুলিও মরিস আর গসিনির মিলিত সৃষ্টির ফসল।

চতুর্থ অ্যালবামের বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি :

নাম : Sous le ciel de l'Ouest (আন্ডার এ ওয়েস্টার্ন স্কাই)
লেখক ও চিত্রশিল্পী : মরিস
প্রকাশক : Dupuis
প্রকাশকাল : ১৯৫২
টাইপ : কমিক অ্যালব্যাম

বি. দ্র. : সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী।

এটি তিনটি গল্পের সংকলন। আপনার জন্য আজ থাকছে সম্পূর্ণ চিত্রচোর সংস্করণ। অনুবাদ যথাসম্ভব আগের লুকের অনুবাদের মতোই সরস রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, বাকিটা আপনারা ভালো বলতে পারবেন। আজ পড়ুন পশ্চিম আকাশের নিচে এর সম্পূর্ণ চিত্রচোর সংস্করণ শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে।

বি. দ্র. : এই কমিক্স অ্যালবামটি সব বয়সের পাঠকদের পড়ার উপযোগী। তাই নির্দ্বিধায় পড়ুন ও পড়ান। আর অনুবাদ কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না যেন।

ডাউনলোড করুন [হাই কোয়ালিটি]


ডাউনলোড করুন [মোবাইল কোয়ালিটি]


আগামী সপ্তাহে ইন্দ্রজালের প্রত্যাবর্তন #০২ পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র চিত্রচোর ব্লগে...


বাংলায় অনুবাদ ও প্রচ্ছদপট রূপায়ন : রূপক ঘোষ
প্রুফ রিডিং : মোঃ আশিকুর রহমান